১ April ২০২৬ Wednesday ১:০৫:৫১ PM Print this E-mail this

বরিশালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, কোটি টাকা লোকসান

নগর প্রতিনিধি:

নগরীর ডজনখানেক বিনোদন কেন্দ্রে কয়েকশ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে সরকারের। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ধরে এসব অবৈধ সংযোগ দিয়ে কয়েকটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এই টাকার একাংশ পায় বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী। আর মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও বন্ধ হয় না অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রতিটি ভাসমান দোকান থেকে মাসে দুই থেকে সাত হাজার টাকা নেয় ওই চক্রের সদস্যরা।

সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর ত্রিশ গোডাউন, বেলসপার্ক, হাতেম আলী চৌমাথা, বিবির পুকুরপাড়, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গারপাড়সহ ডজনখানেক বিনোদন স্পটে কয়েক শতাধিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। ত্রিশ গোডাউনে দুই শতাধিক ভাসমান দোকান রয়েছে। এসব দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করে সাবেক কাউন্সিলর রয়েলের স্বজন পরিচয়ে সিনহা ও বাপ্পি। হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা লেকের পাড়ে ১২৩টি দোকান রয়েছে। এসব ফুটপাতের দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন ইমন ও সাদ্দাম। বিএনপি নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে তারা এ অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য চালাচ্ছেন। বেলসপার্কে আছে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান। এই স্থানটির নিয়ন্ত্রক সালেক ও কুট্টি। প্রায় একযুগ ধরে এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। বিবির পুকুর পাড়ে রয়েছে অর্ধশত ভাসমান দোকান। এসব দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন রাসেল নামের এক ব্যক্তি। সদর উপজেলার লামছড়ি নদীর পাড়ে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। 

জানা গেছে, কতিপয় বিএনপি নেতাকর্মী পরিচয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। হোল্ডিং নম্বর ছাড়া নামে-বেনামে ২-১টি মিটার নামিয়ে বছরের পর বছর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

কেডিসি এলাকার বাসিন্দা রিপন তালুকদার বলেন, যেখানে একটি মিটারের আবেদন করতে হোল্ডিং নম্বরসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হয়, সেখানে কোনো স্থাপনা ছাড়া কিভাবে মিটার দেয়। এরপর ২-১টি মিটার লোক দেখানোর জন্য রাখা হলেও সরাসরি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা শামিম বলেন, এখানে আগে আওয়ামী লীগের লোকজন অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য করত, এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা সেটির দখল নিয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ভাগ পাচ্ছে। যে কারণে কখনই বন্ধ হবে না এই অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য। 

যদিও এর সত্যতা স্বীকার করেছেন ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে প্রতিমাসে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অবৈধ সংযোগের সঙ্গে যারা জড়িত এরা কেউ স্থায়ী কর্মচারী নয়। যারা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন তারাই এসব অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িত। 

হোল্ডিং নম্বর ছাড়া কিভাবে মিটার নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওজোপাডিকো বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনুজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, এসব মিটার কিভাবে নিয়েছে সেটা আমার জানা নেই। 

তিনি আরও বলেন, অচিরেই এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানো হবে। এছাড়া কেউ যদি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

অবৈধ এসব বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করেছি। তারা যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews