একটু বেশিই যেন তেতে ছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। প্রথম লেগের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যেন তাকে আরো বেশি উদ্যমী করে তুলেছিল। যার রূপ দেখা গেল মাঠে, আবারো বেনফিকাকে হারানোর নায়ক তিনি।
প্রথম লেগে বেনফিকার মাঠে ভিনিকে করা হয় বর্ণবাদী আক্রমণ, ডাকা হয় বানর বলে। যদিও সেই ম্যাচে তার গোলেই (১-০) জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ব্যতিক্রম হয়নি গতরাতেও, তার গোলের পরই ২-১ ব্যবধানে জিতেছে দলটা।
বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফে রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হয় বেনফিকার। যেখানে জয়ের পর দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লস ব্লাঙ্কোজরা।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অবশ্য মাত্র ১৪ মিনিটে গোল হজম করে বসে রিয়াল মাদ্রিদ। বেনফিকার হয়ে গোল করে রাফা সিলভা। দুই লেগের হিসাবে তখন ১-১ গোলে সমতা। ফলে জমে উঠে লড়াই।
তবে ম্যাচে ফিরতে বেশিক্ষণ নেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ। মাত্র দুই মিনিট পরই জবাব দেয় তারা। ফেদেরিকো ভালভার্দের পাস থেকে বল পেয়ে অরেলিয়েন চুয়ামেনি দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন।
এটি ছিল তার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম গোল, যা রিয়ালকে আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনে। তবে তখনো ছিল অঘটনের শঙ্কা। এদিকে আরদা গুলের একবার বল জালে জড়ালেও ভিএআরে অফসাইড ধরা পড়ে।
পরে সব অনিশ্চয়তার ইতি টানেন ভিনিসিউস। ৮০ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে ভালভের্দের থ্রু পাস ধরে, কোনাকুনি শটে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন ভিনিসিউস, সবশেষ ১১ ম্যাচে করলেন ৮ গোল।
এরপর অবশ্য আর গোল হয়নি কোনো। বেনফিকাও পারেনি কোনো নাটকীয়তার জন্ম দিতে। শেষ ষোলোতে উঠে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।
শেষ ষোলোয় তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ স্পোর্টিং সিপি নয়তো ম্যানচেস্টার সিটি।
এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে মোনাকোর সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছে পিএসজি। তবে প্রথম লেগে ৩-২ গোলে জিতেছিল তারা। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ গোলের এগিয়ে থেকে শেষ ষোলোয় জায়গা পায় তারা।
অন্যদিকে জিতেও চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ জুভেন্টাসের। ৩-২ গোলের জয় তাদের শেষ ষোলোর টিকিট এনে দিতে পারেনি। কারণ গ্যালাতসারের বিপক্ষে প্রথম লেগে ৫-৩ গোলে হেরেছিল তারা।