যশোর মনিরামপুরের মজিদ। তিনি স্থানীয় মুদি দোকানি। মাসখানেক আগে ডাকাতের কবলে পড়লে তাকে ব্যাপক মারধর করে তারা। দুই পা ভেঙে দেয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে গত ১০ মার্চ জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) আনা হয়। আঘাত এতটাই গুরুতর যে তার দুটি পায়ে রড, স্ক্রু লাগাতে হয়েছে। প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একমাত্র পূর্ণাঙ্গ অর্থোপেডিক ও ট্রমা হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুরুতর আহতদের নিয়ে আসা হয় নিটোরে। বেশির ভাগ রোগীকেই নিতে হয় চিকিৎসকদের ছুরি-কাঁচির নিচে। গুরুতর ও সাধারণ অস্ত্রোপচারের দিক থেকে বিশেষায়িতের মধ্যে পঙ্গু হাসপাতালেই সবচেয়ে বেশি অস্ত্রোপচার হয়, মাসে প্রায় সাড়ে চার হাজার।
চিকিৎসকদের মতে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল না থাকায় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহতদের চাপ বেশি থাকে নিটোরে। এ ছাড়া অন্যান্য হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধাও থাকে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে মোট অস্ত্রোপচার হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৫টি। এর মধ্যে গুরুতর অস্ত্রোপচার ২৫ হাজার ৭৭১টি ও সাধারণের সংখ্যা ২০ হাজার ৩০৪। ওই বছর ভর্তি হয়ে সেবা নেয় মোট ৩১ হাজার ২৩৬ জন। জরুরি বিভাগে সেবা নেওয়া রোগীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৫৬৯ ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬০ জন। তবে চলতি বছর রোগীর পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১ হাজার শয্যার এ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের শয্যা সংখ্যা ২০০। সেবাকাজে নিয়োজিত সাড়ে তিন শর মতো চিকিৎসক। এখানে মাসে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার হাজার রোগীর অস্ত্রোপচার হয়।
নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, প্রাইমারি, সেকেন্ডারি বা জেলা পর্যায়ে যে হাসপাতালগুলো রয়েছে সেগুলোয় অস্ত্রোপচারের সব ধরনের সুবিধা নেই। এ ছাড়া জনবল সংকটও রয়েছে। ফলে সেখানকার আশঙ্কাজনক রোগীদের আমাদের এখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করি সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার। আর এ হাসপাতালের প্রতি মানুষের একটি আস্থা তৈরি হয়েছে, যার কারণেও এখানে রোগী বেশি আসে। আমরা কোনো রোগীকেই ফেরত দিতে পারি না। আমি মনে করি, নিটোর হাসপাতালে আরেকটি ইউনিট করার পাশাপাশি লোকবল ও যন্ত্রপাতি বাড়ানো জরুরি।