ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান দলে এসেছে একের পর এক পরিবর্তন। শেষ টেস্টের আগে বাদ পড়েছেন সাত ক্রিকেটার, দলে ঢুকেছেন আরো সাতজন।

এমন অস্থির পরিস্থিতির মাঝে মুখ খুললেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়া পাওয়া মাইক হেসন। দলের অবস্থা নিয়ে তার মন্তব্যও বেশ কড়া—পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা এ ধরনের ‘বিশৃঙ্খলায়’ অভ্যস্ত।

প্রথম দুই টেস্টে হারের পরই পাকিস্তান টেস্ট দলে বড় পরিবর্তন আনা হয়। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদের জায়গায় দায়িত্ব দেয়া হয় নিউজিল্যান্ডের হেসনকে। তিনি মূলত পাকিস্তানের সাদা বলের দলের কোচ হিসেবে কাজ করছিলেন।

এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে জাপানে ছিলেন তিনি। যুক্তরাজ্যে তার যাওয়ার কথা ছিল রাজা তৃতীয় চার্লসের সাথে দেখা করা ও একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য। কিন্তু হঠাৎ পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে টেস্ট দলের দায়িত্ব নিতে হয়।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে বার্মিংহামে সংবাদ সম্মেলনে নিজের হঠাৎ দায়িত্ব পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন হেসন। তিনি বলেন, ‘আমি মূলত কিংয়ের সাথে দেখা করতে ও একটি সুন্দর অনুষ্ঠানের অংশ হতে আসছিলাম। সেটি তাড়াতাড়ি হয়ে গেল।’

দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে হেসনের ভাষ্য, ‘গত কয়েকটি দিন বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। হোটেলে একদিকে কিছু খেলোয়াড় আসছে, অন্যদিকে কেউ কেউ চলে যাচ্ছে, আবার সবাই এসে যোগ দিচ্ছে। আমার চেয়ে খেলোয়াড়রা সম্ভবত এই ধরনের কিছুটা বিশৃঙ্খলায় বেশি অভ্যস্ত।’

তবে এতো পরিবর্তনের মাঝেও ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থার প্রশংসা করেছেন হেসন। তার মতে, হতাশা থাকলেও দ্রুত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন খেলোয়াড়রা।

তিনি বলেন, ‘তারা যে হতাশ হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ভীষণ হতাশ। তবে আমাদের সেটা এক পাশে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এরপর ভাবতে হয়েছে—ঠিক আছে, এখন কোথা থেকে শুরু করব? গত কয়েক দিনে তারা খুব ভালোভাবেই সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিয়েছে।’

এদিকে হেসন দায়িত্ব নেয়ার আগেই তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার—ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান—দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। এরপর তৃতীয় টেস্টের জন্য বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যেও পরিবর্তন আনা হয়।

প্রথম দুই টেস্টে খেলা স্পিনার আলী উসমান ও পেসার খুররম শাহজাদকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সফরে থাকলেও কোনো টেস্টে খেলার সুযোগ না পাওয়া আমির জামাল ও মোহাম্মদ আওয়াইস জাফরও বাদ পড়েছেন।

তাদের জায়গায় দলে ফিরেছেন টেস্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফাজাল। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাঈদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রাজাউল্লাহ।

হেসনের ব্যাখ্যা, তৃতীয় টেস্টের জন্য শুধু খেলোয়াড় বদল নয়; বরং বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনাই ছিল অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার সময়ই তিনজন—রিজওয়ান, ইমাম ও সালমান আলী আগা—দল ছেড়ে গিয়েছিল। এরপর আমাদের লক্ষ্য ছিল তৃতীয় টেস্টের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করা।’

পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী বোলিং শক্তির কথাও তুলে ধরেছেন হেসন। তার মতে, পেস, অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন ও রহস্যময় স্পিন—পাকিস্তানের ক্রিকেটের পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলেও চলতি সিরিজে সেগুলো ঠিকভাবে ফুটে ওঠেনি।

বার্মিংহামের বৃষ্টির কারণে শুক্রবার এজবাস্টনের ইনডোর সেন্টারে অনুশীলন করেছে পাকিস্তান। নতুন করে দলে ডাক পাওয়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে চারজন অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন, বাকিদেরও পরে দলের সাথে যোগ দেয়ার কথা ছিল।

প্রথম দুই টেস্ট হেরে সিরিজে ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পাকিস্তান। তাই তৃতীয় টেস্টে তাদের সামনে এখন মূল লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। পরিবর্তনের ঝড়ের মধ্যেই হেসনের জন্যও এটি হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্বে প্রথম বড় পরীক্ষা।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews