জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে দেশে দেশে প্রকৃতি অস্বাভাবিক আচরণ করছে। সাধারণভাবে আমরা পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র শীত ও তুষারাবৃত সফেদ পথঘাট দেখতেই বেশি অভ্যস্ত। কিন্তু এবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ইউরোপ জুড়ে তীব্র দাবদাহে অন্তত ১০ হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কি ভয়াবহ পরিস্থিতি! ইরান-আমেরিকা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক সময়ে কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধেও এক সপ্তাহে এত বেশি প্রাণহানির নজির নেই। অস্বাভাবিক গরম থেকে সৃষ্ট দাবানলে জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের হাজার হাজার একর বনভূমি পুড়ে ছাইভস্মে পরিনত হয়েছে। দাবদাহে শুধুমাত্র জার্মানিতেই ৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য জানা যায়। বিলিয়ন ডলার খরচ করে যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত অট্টালিকা, অবকাঠামো দুয়েক বছরেই হয়তো পুন:নির্মাণ করা যাবে, কিন্তু হাজার হাজার একর বনভূমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বহু বছর লেগে যাবে। আত্মবিস্মৃত মানবসভ্যতা ও ধ্বংসের খেলায় মেতে থাকা অহংকারিদের প্রতি প্রকৃতি যেন প্রতিশোধ নিচ্ছে। প্রকৃতির এই প্রতিশোধ হঠাৎ করেই শুরু হয়নি। পরিবেশ ও জলবায়ু বিজ্ঞানিরা বহু বছর ধরে ফসিল জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন ও নগরায়নের মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে পূর্বাভাস ও হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণের কারণে বৈশ্বিক মানব স্বাস্থ্য, প্রাণ-প্রকৃতিতে যে বিপর্যয় দেখা দিতে শুরু করেছে, তা রফতানি বাণিজ্যের সমুদয় অর্থমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। মাত্র এক সপ্তাহের দাবদাহে ইউরোপে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দাবদাহ, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, শৈত্যপ্রবাহসহ প্রকৃতির হেঁয়ালিপনা ও দুর্যোগের কারণে যে ক্ষতি হয় ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্জিত প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশি। চলতি বছরের গ্রীস্মে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অতীতের যেকোনো সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। মানবিক বিপর্যয়, কৃষি, শিল্প, খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির সামগ্রিক বাস্তবতা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি। সাম্রাজ্যবাদী অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অধীনে পশ্চিমা বিশ্ব বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের উপর যে বৈষম্য ও নিষ্ঠুরতা চাপিয়ে দিয়েছে, তা এখন তাদের উপর বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছে। একদিকে যুদ্ধের ময়দানে ইউরোপ আমেরিকা এশীয় শক্তিগুলোর হাতে চরমভাবে মার খেতে শুরু করেছে, অন্যদিকে ইউক্রেন ও ইরানে পশ্চিমা জোটের পরাজয়ে যুদ্ধবাদী ভূরাজনৈতিক দাবার দান ১৮০ ডিগ্রী উল্টে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

প্রথম মহাযুদ্ধের পর থেকে গত একশ বছর ধরে রেজিম ও মানচিত্র বদল, অর্থনৈতিক উন্নয়নের তথাকথিত প্রবৃদ্ধির মানদ-ে বিশ্বের যে ধ্বংসযাত্রা শুরু হয়েছিল, তা যেন তার অন্তিম গন্তব্যে এসে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। অগ্রসর মানুষ বহু আগেই এই পুঁজিবাদী সভ্যতার জঞ্জাল সম্পর্কে সচেতনতা প্রকাশ করেছিলেন। ‘সভ্যতার প্রতি’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই তিরিশের দশকে লিখেছিলেন, ‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর/ লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তুর/ হে নব সভ্যতা!! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,/ দাও সে তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি..। কবির সে নস্টালজিক প্রত্যাশা পূরণ না হলেও মানুষের মধ্যে তথাকথিত উন্নয়নের মোহভ্রম এখন ভাঙতে শুরু করেছে। একদিকে প্রকৃতির প্রতিশোধ অন্যদিকে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় শুধুমাত্র প্রযুক্তি ও মারনাস্ত্রের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে যে সব দেশের উপর নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা ও আধিপত্যবাদী আগ্রাসন চালানো হচ্ছিল, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরানের প্রতিরোধ যুদ্ধের ফলাফল সে সব হিসাব নিকাশও অনেকটাই পাল্টে দিতে সক্ষম হয়েছে। চল্লিশ বছরের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এবং ইরাকের সাথে যুদ্ধ বাধিয়ে অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা দুর্বল ইরানকে টার্গেট করে হাজার হাজার কোটি ডলারের সামরিক পরিকল্পনায় যে ওয়ার থিয়েটার প্রস্তুত করা হয়েছিল, মাত্র তিন মাসের যুদ্ধে তার মঞ্চগুলো ল-ভ- হয়ে গেছে। ইরান-আমেরিকা- ইসরাইলের যুদ্ধে পুঁজিবাদি পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক পরাজয় ঘটেছে। সেখানে ইরানি মুসলমানদের ধর্মবিশ্বাস, দেশের জন্য শহীদ হওয়ার জজবা, হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতার উত্তরাধিকার এবং জাতীয় ঐক্য ও পশ্চিমা সামরিক প্রযুুক্তির ধ্বংস ক্ষমতাকে নিজস্ব মেধা, অ্যাসিমেট্টিক যুদ্ধের রূপরেখায় উদ্ভাবনী সক্ষমতা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়ে বিজয়ী শক্তি হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। গাজা গণহত্যা থেকে শুরু করে ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তনের এক অত্যাশ্চার্য অনুঘটক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদী, সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসী শক্তি এ থেকে যেমন শিক্ষা নিয়ে নিজেদের লাগাম টেনে ধরতে বাধ্য হতে পারে। অন্যদিকে, গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে বহুধাবিভক্ত জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রের নাগরিকদের হীনমন্যতা ঝেড়ে ফেলে যেকোনো পরাশক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের প্রেরণা হয়ে উঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমাদের বিভাজনের রাজনীতির ছত্রছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাজার হাজার কোটি ডলারের নিরাপত্তা চুক্তিগুলোর প্রায় সবই মাঠে মারা গেছে। এমনকি পশ্চিমা সামরিক আধিপত্যের প্রতিক ও অজেয় সামরিক শক্তি হিসেবে ৫ দশক ধরে প্রভাব সৃষ্টিকারী ইসরাইলও এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে।

নিজেদের জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা না থাকলে শত শত বিলিয়ন ডলারের চোখ ধাঁধানো উন্নয়ন, হাজার কোটি ডলারের নিরাপত্তা চুক্তি, কোনোকিছুই কাজে আসেনা। নিরাপত্তার জন্য কোনো পরাশক্তিকে মাথার উপর রেখে দেশের যত উন্নয়ন করা হোক না কেন, শেষতক তা তেমন কোনো কাজে আসেনা। পশ্চিমা নিরাপত্তা ছত্রছায়ায় থাকা এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারের মতো দেশগুলোর নিরাপত্তা উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মতো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্রের আক্রমণ সক্ষমতার কাছে যেকোনো সময় তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়তে পারে। ফরাসি রাফায়েল যুদ্ধবিমান ও রাশিয়ান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনে প্রতিবেশি দেশগুলোর প্রতি ভারতের হুমকি-ধামকি ও বাগাড়ম্বরতা ২০২৫ সালের মে মাসে চারদিনের যুদ্ধে পাকিস্তানে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে ফানুসের মতো ফুটো হয়ে মাটিতে ধসে পড়েছিল। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, নৈতিক মনোবল এবং ন্যায়সঙ্গত অবস্থান না থাকলে শুধুমাত্র যুদ্ধ বিমান ও প্রযুক্তির উপর ভর করে যুদ্ধ জেতা যায়না। ভারত-পাকিস্তান ও ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তা আবারো প্রমানিত হয়েছে। কোনো কোনো সামরিক বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশকে ‘ডিফেন্ডার্স প্যারাডাইস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ দেশের মানুষের স্বাধীনচেতা মনোভাব, দেশপ্রেম এবং ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশকে ঐতিহাসিকভাবে এক অজেয় জনপদের তকমা দিয়েছে। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় রাষ্ট্র শুধু সামরিক বা ভূখন্ড দখলের মাধ্যমেই দখল করা হয়না, বশংবদ রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তি যে কোনো দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করায়ত্ব করে নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউক্রেনের উপর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব এসব দেশকে আলাদা আলাদাভাবে নিরাপত্তাহীনতার নিগড়ে নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে ভেনিযুয়েলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা দেশটিকে মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদের দখলবাজি ও খামখেয়ালিপনার শিকারে পরিনত করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ বাস্তবতা যেন আরো ন্যাক্কারজনক। স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতীয় আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণের দ্বারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পদ ও সম্ভাবনা চরমভাবে লঙ্ঘিত ও লুন্ঠিত হয়েছে। কোনো দেশের অভ্যন্তরে বশংবদ পঞ্চম বাহিনী বা বিশেষ রাজনৈতিক দল বা গ্রুপের উপর শত্রু রাষ্ট্রের সরাসরি প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ থাকলে সে দেশ দখল করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়না। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও কয়েকটি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, তাদের প্রভাবাধীন মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও প্রপাগান্ডা ভারতের পক্ষে এমন ভূমিকা পালন করে আসছে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে ভারতের বশংবদ রাষ্ট্রশক্তি ও পঞ্চম বাহিনীর পরাজয় ঘটলেও তাদের অনুসারী, অনুচর ও সুবিধাভোগিরা বাংলাদেশের রাজনীতি, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সেই সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকরা দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।

সাবেক মার্কিন কুটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার নাকি বলেছিলেন, ‘কন্ট্রোল অয়েল অ্যান্ড ইউ কন্ট্রোল ন্যাশনস; কন্ট্রোল ফুড অ্যান্ড ইউ কন্ট্রোল দ্য পিপল’। নিজেদের বিশাল তেলভা-ারকে মাটির নিচে লুকিয়ে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের তেলসম্পদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ও অর্থনীতির উপর সাত দশক ধরে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপানের উপর পারমানবিক হামলা চালিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার পর থেকে বিশ্বের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার উপর নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক লেনদেনের মুদ্রা হিসেবে ডলারকে ব্যবহার করে ইউনিপোলার বিশ্বব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক শক্তি হয়ে উঠেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ করায়ত্ব করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর শাসকদের উপর সব সময় নানা ধরনের জুজু খাড়া করে রাখা এবং ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া ও মিশরের মতো দেশগুলোকে বাগে রাখতে দশকের পর দশক ধরে ইসলামোফোবিয়া ও ইসলামিক টেরোরিজমের ফল্স ফ্ল্যাগ অপারেশন বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়েছে। ইন্দো-চায়না উত্তেজনা, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরের উপর আধিপত্য কায়েমের লক্ষে ভারতকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে গ্রহণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লাভ হয়নি। এ উপলব্ধি থেকে তারা ভারতকে বগলদাবা করে পাকিস্তানকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে। আর বাংলাদেশ ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুই প্রতিবেশির দুধ খাওয়া দেখে আশপাশে শুধু লাফাচ্ছে অথবা সবকিছু ওপরওয়ালার উপর ছেড়ে দিয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।

জাতীয় নিরাপত্তার মূল উৎস হচ্ছে জাতীয় ঐক্য, আত্মমর্যাদাবোধ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা কৌশল ও প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরশীলতা। হিন্দুত্ববাদী শাসনে থাকা ভারতের শাসকরা প্রমাণ করেছেন, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা একদিকে বাংলাদেশের রাজনীতি, কূটনীতি, অর্থনীতি, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নিজেদের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক এজেন্ডায় বাংলাদেশে খাদ্যশস্য রফতানি বন্ধ করে, গবাদি পশু রফতানি বন্ধ করে, ট্রাভেল ভিসা বন্ধ করে চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ভারত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজার এবং নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তায় অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ধান-চাল, পেঁয়াজ, আলু, আদা-রসুন, গোমাংসসহ সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ আত্মনির্ভরতা অর্জনের মধ্য দিয়ে অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশিদের জন্য ট্রাভেল ভিসা বন্ধ করে দিয়ে ভারতের ট্যুরিজম খাত তথা হোটেল, মার্কেট, হাসপাতালের বিনিয়োগ হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পথে বসতে শুরু করেছে। এবার দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আশার কথা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ আগের বছরের সংশোধিত বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার স্বাস্থ্য বাজেট, ডলারে যার অংক দাঁড়ায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে দেশ থেকে প্রতি বছর ৬ থেকে ৮ লাখ লোক চিকিৎসার জন্য বিদেশে যায়। এর পেছনে বছরে খরচ হয় ৫-৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা এবারের বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেটের চেয়েও বেশি। অথচ এই বিপুল সংখ্যক বিদেশগামী রোগীর প্রায় ৯০ শতাংশের চিকিৎসা দেশেই সম্ভব। সরকার ও দেশের আমলাতন্ত্রে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ভারতীয় এজেন্টরা স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছিল। সামগ্রিক শিক্ষাখাত, স্বাস্থ্য শিক্ষা, মেডিকেল অবকাঠামো ও জনবল বাড়ানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় ও পরনির্ভরতা ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। গত দুই বছর ভারতে মেডিকেল ভিসা বন্ধ থাকায় বিপুল সংখ্যক রোগী দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন। এটা খুবই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সেই সাথে খাদ্য ভেজাল, বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দ দূষণ রোধ করে পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা ও সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। এসব বিষয় জাতীয় সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ।

[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews