চট্টগ্রাম, ১৭ জুলাই – দেশে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে সাতটি জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে পানি কমতে শুরু করলেও উত্তরাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ১২ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং চট্টগ্রামে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, নগদ অর্থ ও শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
এস এম/ ১৭ জুলাই ২০২৬