পানির ওপরই জীবন নির্ভরশীল। কিন্তু পরিবেশ দূষণ, শিল্পবর্জ্য ও পাইপলাইনের সমস্যার কারণে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই তাই বাড়িতে পানির ফিল্টার ব্যবহার করেন। তবে প্রশ্ন হলো, আপনি যে ফিল্টার ব্যবহার করছেন, সেটি আদৌ ঠিকভাবে কাজ করছে তো? যন্ত্র নষ্ট হলে বা ফিল্টার অকার্যকর হয়ে গেলে তা বুঝবেন কীভাবে? পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাদ, গন্ধ ও স্বচ্ছতা লক্ষ্য করুন
ফিল্টার কাজ করা বন্ধ করলে প্রথম সংকেত দেয় পানি নিজেই। পানির স্বাদে পরিবর্তন হলে সতর্ক হতে হবে। যদি পানিতে ধাতব, লবণাক্ত বা রাসায়নিক ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়, তবে সেটি স্বাভাবিক নয়।

একটি স্বচ্ছ গ্লাসে পানি নিয়ে আলোতে ধরুন। যদি পানি ঘোলাটে, হলুদ বা বাদামি রঙের দেখায় কিংবা ভেতরে ছোট কণা ভাসতে থাকে, তবে সেটি পান করার উপযুক্ত নয়। বিশুদ্ধ পানি সাধারণত স্বচ্ছ ও গন্ধহীন হয়।

টিডিএস লেভেল পরীক্ষা করুন
পানিতে সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। অঞ্চলভেদে পানির মান ভিন্ন হতে পারে। তাই পানির (টিডিএস বা মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের মাত্রা জানা গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে সহজেই টিডিএস মিটার পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে আপনি পানির মান যাচাই করতে পারেন। সাধারণত ৫০–১৫০ পিপিএমেরমধ্যে টিডিএস মান অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ধরা হয়, তবে নির্দিষ্ট এলাকার পানির মান অনুযায়ী তা ভিন্ন হতে পারে।

পানির ফিল্টার কি নিরাপদ? যা দেখে সতর্ক হবেন

ফিল্টার রিপ্লেসমেন্ট অ্যালার্ট
প্রতিটি ওয়াটার ফিল্টারের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। কত লিটার পানি পরিশোধনের পর ফিল্টার পরিবর্তন করতে হবে, তা আগে থেকেই জেনে রাখা প্রয়োজন। আধুনিক অনেক যন্ত্রে রিপ্লেসমেন্ট ইন্ডিকেটর বা অ্যালার্ট সিস্টেম থাকে। যদি এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়, তবে ফিল্টার অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত সার্ভিসিং করাও জরুরি। দীর্ঘদিন ফিল্টার না বদলালে তা নিজেই দূষণের উৎসে পরিণত হতে পারে।

পানির প্রবাহের গতি লক্ষ্য করুন
নতুন অবস্থায় যে গতিতে পানি বের হতো, এখনো কি সেই একই গতি বজায় আছে? যদি পানির ধারা খুব ধীর হয়ে যায়, তবে ধরে নিতে হবে ফিল্টার ব্লক হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবর্তনের সময় হয়েছে। আবার উল্টাভাবে, যদি অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে পানি বের হয়, তবে সেটিও সমস্যা নির্দেশ করতে পারে-কারণ তখন যথাযথভাবে পরিশোধন নাও হতে পারে। পানির ফিল্টার ব্যবহার করলেই নিশ্চিন্ত থাকা যায় না। নিয়মিত পরীক্ষা, টিডিএস মাপা, স্বাদ-গন্ধ পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো ফিল্টার পরিবর্তন করে পরিবারকে নিরাপদ রাখতে পারেন।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:
বেগুনি, পেঁয়াজুর অতিরিক্ত তেল ঝরাবেন যেভাবে
বেসন থেকে পোকা দূর করার উপায়

এসএকেওয়াই/এমএস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews