বরগুনায় একটি মামলায় বাদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ায় রেবেকা বেগম নামে এক নারীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী কামাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে। আহত রেবেকাকে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে আমতলী উপজেলার শাখারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাখারিয়া গ্রামের কামাল হাওলাদার তার স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ এনে প্রতিবেশী নিজাম সিকদার ও হালিম মিস্ত্রির বিরুদ্ধে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আমতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আমতলী থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
মামলাটি তদন্তের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেবেকা বেগমসহ স্থানীয় কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। রেবেকা বাদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন—এমন অভিযোগে কামাল হাওলাদার ক্ষুব্ধ হন বলে আহত রেবেকার দাবি।
রেবেকা বেগমের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুরে তিনি কামাল হাওলাদারের বাড়ির পাশে একটি টেইলার্সের দোকানে পোশাক আনতে যান। এ সময় কামাল হাওলাদারের স্ত্রী রেক্সেনার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও চুলাচুলির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কামাল হাওলাদার সেখানে এসে চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করেন। এতে তার মাথা ও কপালে গুরুতর জখম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কুলসুম বলেন, রেবেকা আমার কাছে পোশাক নিতে এসেছিল। তাকে দেখে কামাল হাওলাদারের স্ত্রী রেক্সেনা গালাগাল করেন। পরে কামাল হাওলাদার চাপাতি দিয়ে রেবেকাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন।
আহত রেবেকা বেগম বলেন, “ওই মামলায় পুলিশ তদন্ত করতে এলে আমি সত্য সাক্ষ্য দিয়েছি। এ কারণে কামাল হাওলাদার ও তার স্ত্রী আমাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে কামাল হাওলাদার বলেন, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি চাপাতি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মহুয়া বলেন, আহত রেবেকা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইখা