কেনেডি সেন্টার থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন ওয়াশিংটন ডিসির এক জেলা বিচারক। শুক্রবার এ বিষয়ক আদেশে সই করেন তিনি।

এই রায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ, তিনি এই পারফর্মিং আর্টস ভেন্যুটি (সাংস্কৃতিক কেন্দ্র) সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সংস্কারকাজের জন্য চলতি বছরের শেষের দিকে ভবনটি বন্ধ রাখারও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুক্রবারের আদেশে ভবনটি বন্ধ করার ওপরও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভবনের গায়ে ও আশপাশের সাইনবোর্ড থেকে ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলতে হবে।

৯৪ পৃষ্ঠার এই রায়ে মার্কিন জেলা বিচারক ক্রিস্টোফার আর কুপার লেখেন, 'আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে একতরফাভাবে কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামে রাখার মাধ্যমে বোর্ড তাদের আইনি সীমানা লঙ্ঘন করেছে।'

বিচারক কুপার লেখেন, '১৯৬৪ সালে কংগ্রেস খুব ভেবেচিন্তেই "ন্যাশনাল কালচারাল সেন্টার"-এর নাম পরিবর্তন করে "জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস" রেখেছিল।'

তিনি আরও লেখেন, 'কংগ্রেসই কেনেডি সেন্টারের নাম দিয়েছিল এবং একমাত্র কংগ্রেসই তা পরিবর্তন করতে পারে।'

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রায় ৬০০ শব্দের এক পোস্টে বিচারকের কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। আদালতের এ ধরনের আচরণের জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য বিভাগ এই ভবনের নিয়ন্ত্রণ কংগ্রেসের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করবে।

usanews

ট্রাম্প লেখেন, 'আমি যে কাজটি অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে ভালো পারি, তা করার স্বাধীনতা যদি আমার না থাকে—অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানকে যদি আমি কাঠামোগত দিক থেকে, আর্থিকভাবে এবং শৈল্পিক দিক থেকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে না পারি, তবে এমন এক অসম্ভব যাত্রায় টিকে থাকার কোনো আগ্রহ আমার নেই; এটি হবে কেবলই একটি মরিচীকার পেছনে ছোটা।' 

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেনেডি সেন্টারের কয়েকজন বোর্ড সদস্যকে বরখাস্ত করে নিজের পছন্দের লোকদের নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

নতুন এই বোর্ডে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডাই ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের মতো তার মিত্ররা রয়েছেন। নতুন বোর্ড ট্রাম্পকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে এবং ভবনের নাম পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রস্তাব অনুমোদন করে।

এর আগে বোর্ডে ৩৬ জন সদস্য ছিলেন, যাদের ৬ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া সদস্যদের সংখ্যা প্রায় সমান ছিল।

শুক্রবার এই রায় দেওয়া হয়েছে ডেমোক্র্যাট দলীয় ওহাইও রেপ্রেজেনটেটিভ জয়েস বিটির একটি মামলার ওপর ভিত্তি করে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ২০২৫ সালে কেনেডি সেন্টারের উপবিধি সংশোধন করে বোর্ড সদস্য হিসেবে তার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

ই-মেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিটি অ্যাক্সিওসকে বলেন, এই রায় প্রমাণ করে যে নাম পরিবর্তনের কোনো 'আইনি ভিত্তি' ছিল না। 

তিনি বলেন, 'কেনেডি সেন্টার আমেরিকান জনগণের প্রতিষ্ঠান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়। তিনি নিজের অহংকার মেটাতে এই পবিত্র স্থানটিকে অপবিত্র করেছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং এই পবিত্র প্রতিষ্ঠান রক্ষার লড়াইয়ে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।'

কেনেডি সেন্টারের মুখপাত্র রোমা দারাভি অ্যাক্সিওসকে বলেন, 'আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আপিলে আদালত বোর্ডের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখবেন। আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ইচ্ছাই এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা আদালতের সিদ্ধান্তটি খুব সতর্কভাবে পর্যালোচনা করব। তবে বাস্তব পরিস্থিতি হলো—জরুরি ভিত্তিতে সেন্টারের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।' 

সূত্র: বিবিসি

বিডি প্রতিদিন/নাজিম



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews