মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স ব্যবহার করে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি) সেবার আওতায় মাসিক খরচের সীমা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর আগে এই সেবার মাধ্যমে স্মার্টফোন কেনা যেত না।

বিটিআরসি কর্মকর্তা ও খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন সীমার আওতায় গ্রাহকেরা স্মার্টফোন, সিমভিত্তিক ডিভাইস, রাউটারসহ অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবার মূল্য মোবাইল ব্যালেন্স থেকে পরিশোধ করতে পারবেন। কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগও তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে কিস্তির অর্থ পরিশোধের সুবিধা থাকবে।

ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক হিসাব নেই এমন গ্রাহকদের কেনাকাটার সুযোগ বাড়াতেই এই উদ্যোগ। তবে ডিওবি সাধারণ মোবাইল ওয়ালেটের মতো অবাধে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল অর্থ নয়। কেবল নির্ধারিত পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধেই এটি ব্যবহার করা যাবে।

এখন পর্যন্ত সংশোধিত সীমার আওতায় শুধু গ্রামীণফোন অনুমোদন পেয়েছে। অন্যান্য অপারেটরও অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, সরকার স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কার্ড বা অন্যান্য ব্যাংকিং চ্যানেলের সুবিধা নেই এমন গ্রাহকেরা যাতে মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে হ্যান্ডসেট কিনতে পারেন, এটি সেই সুযোগ তৈরি করবে।

যেসব পণ্য ও সেবায় ব্যবহার করা যাবে

ডিওবির মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্ট, অ্যাপ ও অ্যাপভিত্তিক কেনাকাটা, অনলাইন ইউটিলিটি বিল, ই-টিকিটিং, ই-হেলথ সেবা, সরকারি লটারি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন এবং শিক্ষা প্ল্যাটফর্মসহ অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে।

তবে ভার্চুয়াল মুদ্রা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ ও গেমে ব্যবহৃত কয়েন, পয়েন্ট, ক্রেডিট, কুপন, ডায়মন্ড ও জেম কেনা যাবে না। জনগণের কাছ থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ, ঋণ দেওয়া, অর্থ সংরক্ষণ বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সুযোগ করে দেয় এমন অ্যাপেও ডিওবির মাধ্যমে লেনদেন নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া জুয়া, ক্যাসিনো, লটারি, ক্রিপটোকারেন্সি বা ক্রিপটো-অ্যাসেট কেনাবেচা, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, শেয়ারবাজারে লেনদেন এবং মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রমে এই সেবা ব্যবহার করা যাবে না।

নন-রেসিডেন্ট মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর প্রয়োজন হলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

কয়েক বছর পর বাড়ল সীমা

বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ডিওবি চালু হয়। সে সময় মাসিক খরচের সীমা ছিল ৬০০ টাকা এবং বার্ষিক সীমা ৩ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক সাময়িকভাবে মাসিক সীমা ২ হাজার ও বার্ষিক সীমা ২০ হাজার টাকা করে। এই সীমা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত সাপেক্ষে বিটিআরসি অপারেটরদের বর্ধিত সীমার আওতায় সেবা দেওয়ার অনুমতি দেয়। নতুন সিদ্ধান্তে মাসিক সীমা ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আগের ২ হাজার টাকার সীমার তুলনায় ২৫ গুণ।

ডিওবির মাধ্যমে গ্রাহকেরা যাতে অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে অপারেটরদের। গ্রাহক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে তাদের। পাশাপাশি রিফান্ড ও চার্জব্যাক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

ডিওবি কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে থাকবে। সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় মোবাইল অপারেটরদের রিপোর্টিং সংস্থা হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।

আরটিভি/এসকে



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews