মেগাসিটি ঢাকার আকাশ আবারও বিপজ্জনক বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে এবং আজ মঙ্গলবার সাতসকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমানের স্কোর আজ রেকর্ড করা হয়েছে ২৪১। বায়ুমানের এই মাত্রাকে সাধারণত ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা নগরবাসীর জন্য বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। কিছু দিন আগে ঢাকার বাতাসের মানের কিছুটা উন্নতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দূষণের মাত্রা পুনরায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে।
আজকের এই দূষণ তালিকায় ঢাকার ঠিক পরেই ২১৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি শহর। এ ছাড়া ২১৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর, ১৯২ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে নেপালের কাঠমান্ডু এবং ১৭১ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহর।
বায়ুমানের এই সূচক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলো বর্তমানে তীব্র বায়ুদূষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ভালো এবং ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুমান যখন ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া সাধারণ মানুষদেরও বাইরের কার্যক্রম যতটা সম্ভব সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার বাতাস সাধারণ মানুষের জন্য কার্যত ‘বিষ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার প্রথম শিকার হচ্ছে শিশুরা। সূচক যদি ৩০১ থেকে ৪০০-এর ঘরে পৌঁছায় তবে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা যেকোনো সুস্থ মানুষের জন্যও প্রাণঘাতী হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং কলকারখানার দূষণ ঢাকাকে মেগাসিটি থেকে একটি দূষণকবলিত শহরে পরিণত করেছে। যদিও মাঝে মাঝে বৃষ্টি বা আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতির কিছুটা হেরফের হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অভাবে ঢাকা বারবার এই তালিকার শীর্ষে ফিরে আসছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা, অন্যথায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।