ইরান বর্তমানে একটি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে তাঁর সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রোববার (২৩ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থায় প্রচারিত টেলিভিশন ভাষণের বরাত দিয়ে ইরানের সরকারী সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায় পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'আমরা বর্তমানে এক সর্বাত্মক অর্থনৈতিক, সামরিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।'
অর্থনৈতিক সংকট ও ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করে ইরানি প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ দূর করতে না পারায় তাঁর সরকার এক রকমের ‘লজ্জা' অনুভব করছে।
ভাষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতির সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, 'ট্রাম্প খুব সহজেই বলে দেন যে তারা ইরানের ওপর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বা ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন।' চলমান পরিস্থিতিকে একটি ‘অসমান যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বৈরী চাপ থাকা সত্ত্বেও ইরান শক্তভাবে মাথা উঁচু করে টিকে আছে এবং ইরানি জনগণের সেবা দিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে পেজেশকিয়ান বলেন, “শত্রুপক্ষ ভেবেছিল ইরানের পতন হলে তা ভেনেজুয়েলায় পরিণত হবে। কিন্তু তা তো হয়ইনি, বরং নিজের প্রতিরোধ, সংহতি ও অভূতপূর্ব একতা দিয়ে ইরান বিশ্বকে বাক্রুদ্ধ করে দেওয়ার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।”
অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও স্থবির আলোচনা
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাজন, সংঘাত ও ব্যক্তিস্বার্থ দূরে ঠেলে দিয়ে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে ইরানি প্রশাসন সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে উপনীত হওয়া।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সমঝোতা বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের কারণে দুই দেশের এই কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে থমকে রয়েছে।