দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এ বিষয়ে আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ায় আসিফ মাহমুদকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরি হয়েছে। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত—এমন ধারণা জনমনে সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে সংবাদ প্রচারের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বিষয়টি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি।
আইনি নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় ওই পদোন্নতি হয়।
এ অবস্থায় ১৫ দিনের মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য একইভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার জন্য আখতারুল ইসলামকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথভাবে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আখতারুল ইসলামকে এ আইনি নোটিশ পাঠান।