সারাদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, মানুষের সঙ্গে কথা বলা কিংবা নিত্যদিনের নানা দায়িত্বের ভিড়ে অনেক চিন্তাই আমাদের অগোচরে থেকে যায়। কিন্তু রাত নামলে, চারপাশ যখন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে, তখন যেন মনের ভেতরের কথাগুলোও জেগে ওঠে। তাই অনেকেই অনুভব করেন—নিস্তব্ধ রাত যেন হাজারো ভাবনার সঙ্গী।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দিনের বেলায় আমাদের মস্তিষ্ক নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে ব্যক্তিগত অনুভূতি, উদ্বেগ বা অসমাপ্ত চিন্তাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ কম মেলে। কিন্তু রাতে বাইরের উদ্দীপনা কমে গেলে মস্তিষ্ক নিজের ভেতরের বিষয়গুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করে।

- Advertisement -

এ সময় অতীতের স্মৃতি, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, অপূর্ণ ইচ্ছা কিংবা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস—সবকিছুই একসঙ্গে মাথায় ভিড় করতে পারে। ছোট একটি সমস্যা রাতের নীরবতায় অনেক বড় মনে হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

এমনটা কেন হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনধারায় আমরা এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে মস্তিষ্ক প্রকৃত বিশ্রামের সুযোগ পায় না বললেই চলে। মানুষ এক কাজ শেষ করে দ্রুত অন্য কাজ শুরু করে আর দিনের শেষে বিশ্রাম নেওয়ার বদলে ফোন স্ক্রল করে সময় কাটান। কিন্তু মস্তিষ্কের যথেষ্ট বিরতির প্রয়োজন হয়। আধুনিক জীবনধারা যে সুযোগ খুব কমই দেয়। ফলে রাতের সময়টাই অনেকের কাছে হয়ে ওঠে দিনের প্রথম শান্ত মুহূর্ত। তখন মানুষ নিজের সঙ্গে একটু একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পান। তাই তার দমিয়ে রাখা চিন্তাগুলো ধীরে ধীরে সামনে আসতে শুরু করে। ফলে অনেকেই হঠাৎ করে উদ্বেগ, মানসিক অস্থিরতা বা অজানা অস্বস্তি অনুভব করেন।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি চাপ স্নায়ুতন্ত্রকে এক ধরনের সতর্ক অবস্থায় রেখে দেয়। এমনকি দিনের ছোট ছোট স্ট্রেসও শরীরকে পুরোপুরি শিথিল হতে দেয় না। এমনক্ষেত্রে মস্তিষ্ক কখনো কখনো সাধারণ বিষয়কেও জরুরি সঙ্কেত হিসেবে ভাবতে শুরু করে। ফলে ছোট ছোট বিষয়কেও বিপদ ভেবে ভুল করে বসে। এর জেরে অযথা উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে কী করে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ঘুমানোর রুটিন ঠিক করলেই রাতের উদ্বেগ পুরোপুরি কমানো সম্ভব নয়। সারাদিনের কিছুটা সময় যদি সত্যিই মানসিক বিরতি নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলেই কেবল রাতের এই অস্থিরতা কমানো সম্ভব। তাই দিনেই ছোট ছোট বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করুন।

সেসঙ্গে স্ক্রিনটাইম কমানো, নিঃশব্দে একান্তে কিছুটা সময় কাটানো বা সচেতন ভাবেই খানিকটা সময় বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। এতে মনের ওপর থেকে চাপ কমবে। তবে এসবেও যদি মুক্তি না মেলে, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।

- Advertisement -



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews