প্রশ্ন চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে দিল্লির মনোযোগের পর্বে বিষয়টি দুই দেশের প্রেক্ষাপটেই সীমিত থাকছে না। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দুই নিকট প্রতিবেশীর সম্পর্কে যখন তিক্ততার মাত্রা বেড়েছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন আর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত পাঁচ দশকের মধ্যে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কটা সবচেয়ে ভালো। আর এর শুরুটা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমল থেকে।
আর আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে চীনের যে ঘনিষ্ঠতা ছিল, আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তা ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। উল্টো ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে চীন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সবকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও দেশটি সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে। আর একই সময়ে পাকিস্তান আওয়ামী লীগ শাসনামলের স্থবির সম্পর্কে গতি এনেছে। সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের সম্পর্কে নির্বাচনের পর ছন্দপতন ঘটেনি। সমানতালে তা এগিয়ে চলেছে।
ভারতের সাবেক জাতীয় উপনিরাপত্তা উপদেষ্টা পঙ্কজ সরন বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার চীন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নেবে আর এই সমীকরণে ভারতের অবস্থানটা কোথায় থাকবে—ভবিষ্যতে এটা হবে বড় প্রশ্ন।
ভারতের কূটনৈতিক মহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লির একধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরিতা বজায় রয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক আছে। তাই প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে ওই তিন দেশের সম্পর্কের বিবর্তনের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে ভারত।
যুক্তরাষ্ট্র কিংবা চীনের প্রসঙ্গ না এলেও ৪ মে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের মতবিনিময়ের সময় ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের সমীকরণের প্রসঙ্গটি এসেছিল। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি দৃশ্যমান হয়। দুই দেশের সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে ভারত কীভাবে দেখে জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখবে, সেটা আমার বলার কথা নয়। এটা বাংলাদেশই ঠিক করবে। আমি শুধু এটুকু বলব, কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ যেন আমাদের দুই দেশের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে ব্যাহত না করে সে বিষয়টিতে আমার গুরুত্ব থাকবে।’