সময় কখনো এমন গল্প লেখে, কল্পনাকেও যা হার মানায়। একদিন যে শিশুটিকে কোলে তুলে আদর করেছিলেন লিওনেল মেসি, সেই লামিনে ইয়ামালই বিশ্বকাপ ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ। দেড়যুগ আগের একটি ছবির গল্প পৌঁছেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

একটি ছবি, মাত্র একটি মুহূর্ত। কিন্তু ১৮ বছর পর সেটিই যেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য গল্পগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। যা বিশ্বাস করতে পারছেন না স্বয়ং লিওনেল মেসিও। তার কাছেও বিষয়টি স্বপ্নের মতো সুন্দর।

২০০৮ সালে বার্সেলোনার একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা সেই ছবিতে দেখা যায়, মাত্র আট মাসের এক শিশুকে কোলে নিয়ে গোসল করাচ্ছেন তখনকার ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। শিশুটির নাম লামিনে ইয়ামাল।

তখন কেউ জানত না, এই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠবে। আরো অবিশ্বাস্য বিষয়, ১৮ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরই প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবেন তিনি।

সময় সেই দুইজনকে দাঁড় করিয়েছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। রোববার নিউ জার্সিতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের আগে এই ছবিটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

কয়েক দিন আগে ডিএজেডএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই ছবি নিয়ে কথা বলেন ইয়ামাল। বলেছিলেন, ‘আমি একটু বড় হয়েছি, লিও-ও বড় হয়েছে। ফাইনালে লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলতে পারলে দারুণ হবে। ফিনালিসিমায় সেটা সম্ভব হয়নি।’

এবার সেই ছবি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মেসিও।

শুক্রবার ফিফার এক অনুষ্ঠানে একই ছবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্মৃতির পাতায় ফিরে যান আর্জেন্টিনাই অধিনায়ক। বিষয়টাকে অবিশ্বাস্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘সত্যি বলতে, ছবিটা অবিশ্বাস্য। এটাই তো জীবন। আমি যখন তাকে কোলে নিয়েছিলাম, সে ছিল একটা শিশু। আর এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

তবে আবেগের জায়গা থাকলেও মাঠে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন মেসি। ‘সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আমি চাই সে ভালো করুক, কারণ তার ভালো হওয়া বার্সেলোনার জন্যও ভালো। তবে ফাইনালে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব, যেন সে তার সেরাটা খেলতে না পারে।’

ছবির গল্পটিও কম চমকপ্রদ নয়। আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত জানিয়েছেন, বার্সেলোনার একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য রোকাফোন্দা এলাকার কয়েকটি শিশুকে লটারির মাধ্যমে বেছে নেয়া হয়েছিল। সেই লটারিতেই নির্বাচিত হয় ইয়ামালের পরিবার।

মনফোর্তের ভাষায়, ’ছবিটি অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের সাথেও হতে পারত। কিন্তু ভাগ্য তাদের একসাথে করেছিল। সম্ভবত মেসিও তখন জীবনে প্রথম কোনো শিশুকে কোলে নিয়েছিলেন। তাই দুজনের মধ্যেই একটু অস্বস্তি ছিল। কিন্তু সেই অস্বস্তিই ছবিটিকে এত স্বাভাবিক আর সুন্দর করে তুলেছে।’

মূলত ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করার পর সেটি নতুন করে ভাইরাল হয়। তখন বার্সেলোনা ও স্পেনের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ইয়ামাল।

যাহোক, এবার সেই ছবির দুই চরিত্র দাঁড়িয়ে আছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। ১৮ বছর আগে এক ফ্রেমে ধরা পড়া দুই প্রজন্মের গল্পের পরবর্তী অধ্যায় লেখা হবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে।

একজন লিওনেল মেসি—যিনি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নিজের কিংবদন্তিকে আরো সমৃদ্ধ করতে চান। অন্যজন লামিনে ইয়ামাল—যার সামনে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews