কাতারের আল-উদিদ এবং কুয়েতের আল-আদিরি মার্কিন ঘাঁটিতে জিপিএস বা কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা ছাড়াই হামলা চালিয়েছে ইরানি বিমানবাহিনী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এ খবর জানিয়েছে। ইরান বিমানবাহিনীর উপ-সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ জাফরি বৃহস্পতিবার জানান, উড়োজাহাজ থেকে কোনো ধরনের সংকেত না দিয়ে কেবল কাগজের মানচিত্র ও প্রথাগত কৌশলের ওপর নির্ভর করে গত ২ মার্চ এ সাহসী অভিযান চালানো হয়।
তিনি জানান, মিশন পরিচালনায় পাইলটরা জিপিএস (উপগ্রহভিত্তিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা) কিংবা আইএনএস (উড়োজাহাজের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ গতি ও দিক মেপে অবস্থান জানার প্রযুক্তি) কোনোটিই ব্যবহার করেননি। জিপিএস সিগন্যাল ছাড়া শুধু আইএনএস ব্যবহার করলে বিমান থেকে কোনো সিগন্যাল বাইরে যায় না শত্রুর রাডারে বিমান সহজে ধরা পড়ে না। কিন্তু দীর্ঘ পথ ওড়ার পর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে একদম নিখুঁত বোমাবর্ষণ করা আইএনএস দিয়ে কঠিন হয়ে পড়ে।
জাফরি বলেন, 'আমাদের আসল কৌশল ছিল উড়োজাহাজ থেকে কোনো রেডিও সিগন্যাল বা ইলেকট্রনিক তরঙ্গ নির্গত না করা।' মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসনের শুরুর দিকে শত্রুরা ভাবতেও পারেনি যে ইরান বিমানবাহিনীর এমন মিশন চালানোর সাহস হবে।
খবরে বলা হয়, ২ মার্চ শিরাজের শহীদ দাওরান বিমানঘাঁটি থেকে চারটি এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান নিয়ে চারজন পাইলট কাতারের আল-উদিদ ঘাঁটিতে হামলা চালান। এ ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য থাকে। চার পাইলটের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ কাজেমির দেহাবশেষ সম্প্রতি দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে বাকি তিনজনের ভাগ্য এখনো অজানা।
একই দিনে কুয়েতের মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আল-আদিরি ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরানের এফ-৫ যুদ্ধবিমান। এ সময় সেখানকার মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চ সতর্ক অবস্থায় চলে যায়। ফলে গোলযোগময় পরিস্থিতিতে কুয়েতের নিজেদের গুলিতেই মার্কিন বাহিনীর তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চরম নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কাজ করায় ইরানি পাইলটরা কোনো আধুনিক ডিভাইসের সহায়তা ছাড়াই কেবল মানচিত্র দেখে উড্ডয়ন ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে অভ্যস্ত বলে জানান ওই কমান্ডার।