তারেক রহমানের সরকার ঈদের আগে আগে পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতার সমস্যা যেভাবে মিটিয়েছে, সে–ও অনেকের প্রশংসার বিষয় হয়েছে। প্রধান শিল্প খাত রপ্তানিমুখী পোশাক তৈরির কারখানাগুলোতে অনেক মালিক বেতন-বোনাস ছাড়াই শ্রমিকদের ঈদের ছুটিতে পাঠাতে চেয়েছিলেন। সরকার ফ্যাক্টরির মালিকদের আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়ে বেতন-বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
শ্রমিকদের দিক থেকে এটা সন্তোষজনক। তবে টাকাটা সরকারের দিক থেকে হয়তো ঋণসহায়তা বা অন্য কোনো সহায়তা হিসেবে গেল, মালিকদের আয় বা মুনাফা থেকে নয়। ক্রমাগত প্রবৃদ্ধিতে আছে, এমন একটি শিল্প খাতের মালিকদের সরকার থেকে সহায়তা দিয়ে বেতন-বোনাস দেওয়ানো আপাতদৃষ্টে সন্তুষ্টি তৈরি করলেও দীর্ঘ মেয়াদে শিল্প বা রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর—সেই প্রশ্ন থেকেই গেল।
কোথাও আগুন লাগলে তাৎক্ষণিক আগুন নেভাতে হবে—এটিই করণীয়। সরকার সেই কাজ করেছে। সংসদ সদস্যদের তালিকায় অন্তত ১৬ জন সদস্য আছেন পোশাক খাতের—সেটিও হয়তো এ ক্ষেত্রে বিবেচনাযোগ্য একটি বিষয়। তবে ‘ফায়ার ফাইটার’ হিসেবে যে কারও এটিও দেখা দরকার, বিশেষ বিশেষ জায়গায় কেন বারবার ‘আগুন’ লাগে। আগুনের স্থায়ী উৎস চিহ্নিত করে সেটি দমনই সম্ভবত দূরদর্শী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনার লক্ষণ। ঈদের আগে-আগে যখন মার্চের শেষার্ধ্ব চলছে; জানা গেল ৮০০ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় ফেব্রুয়ারির বেতন বাকি। এটি সংবাদমাধ্যমকে শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য ছিল। (টিবিএস, ১৮ মার্চ ২০২৬)