রাজনীতির মাঠে অনেক শব্দ চালু আছে। আমরা জানি ‘দল’ বলে একটি শব্দ আছে। কিছু লোক রাষ্ট্র নিয়ে ভাবেন। তাঁরা কিছু লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন, কথা বলেন। আমরা তাদের বলি রাজনৈতিক দল। দল-সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কিছু শব্দ চালু আছে, যেমন দলবাজ। দলের নেতা বা কর্মীর একটা অর্থ ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু ‘দলবাজ’ শব্দটির আছে আলাদা মোজেজা।
দল করাটা খারাপ নয়। কিন্তু দলবাজি খারাপ অর্থেই ব্যবহার করা হয়। কেউ যদি কোনো দলের সঙ্গে থাকেন ও কাজ করেন, আমরা তাঁকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিনি। তিনি পরিচিত হন ‘দলীয় লোক’ হিসেবে। কিন্তু ‘দলবাজ’ বলতে আমরা বুঝি দলের নাম ভাঙিয়ে ধান্দা করে বেড়ানো কিছু মানুষ, যারা না বোঝে রাজনীতি, না বোঝে দল।
দলবাজি যখন জেঁকে বসে, তখন দল আর দল থাকে না। এটি পরিণত হয় একটি সিন্ডিকেটে, যার কাজ হলো রাজনীতির নামে মানুষ পেটানো, চাঁদাবাজি, অন্যের সম্পদ দখল ইত্যাদি। কয়েক মাস আগে পরিবহন সেক্টরে চাঁদা তোলার ব্যাপারটিকে ন্যায্যতা দিতে গিয়ে একজন মন্ত্রী এর একটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ওই মন্ত্রীর কথায় একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছিল—চাঁদাবাজি আছে, কিন্তু সেটি মন্দ নয়; ভালো, স্বেচ্ছামূলক।