হেক্সা মিশনের প্রথম নকআউটেই কঠিন পরীক্ষার সামনে ব্রাজিল। সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ ‘সামুরাই ব্লু’ বাহিনী। ম্যাচটাকে তাই বলা যায় ঐতিহ্যের সাথে ট্যাকটিকসের লড়াই। অভিজ্ঞতার সাথে বিজ্ঞানের লড়াই।

টেক্সাসে বিশ্বকাপের সুপার-৩২ এর ম্যাচে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান।

কাগজে-কলমে শক্তিমত্তা, অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস- সব দিক থেকেই এগিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর সর্বশেষ দেখার ফলাফল বলছে, জাপানকে একটুও হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে সেলেসাওরা। ব্রাজিলের অবস্থান ষষ্ঠ, আর জাপান রয়েছে ১৮ নম্বরে। দু’দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও ব্রাজিলের পক্ষেই একতরফা কথা বলছে।

এখন পর্যন্ত ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। এর মধ্যে সাতটিতে জিতেছে ব্রাজিল, দু’টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। কিন্তু জাপানের একমাত্র জয়টি এসেছে সর্বশেষ দেখায়।

২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত প্রীতিম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল জাপান। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নামছে সামুরাই ব্লুরা।

ওই ম্যাচে খেলা জাপানের বেশ কয়েকজন ফুটবলার এবারো বিশ্বকাপ দলে রয়েছেন। যারা হয়ে উঠতে পারেন সেলেসাওদের ভয়ের কারণ। অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচটা প্রতিশোধের।

এর অবশ্য বিশ্বকাপে একবারই দেখা হয়েছে ব্রাজিল ও জাপানের। ২০০৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দেখায় জাপানকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় সেলেসাওরা।

এবারে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের শুরুটা হয়েছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। এরপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে টানা ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা।

অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে জাপান। দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সুইডেনের সাথে ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে উঠে জাপান।

নকআউটে অবশ্য কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে সামুরাই ব্লুদের। তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর তার মাঝে থেকে জাপানের সবচেয়ে বড় চিন্তার নাম হতে পারেন নেইমার।

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের বিপক্ষে জাপানের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। জাপানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। তাতেই করেছেন ৯ গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এত বেশি গোল নেই তার।

২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এক প্রীতিম্যাচে একাই করেছিলেন ৪ গোল। তাই নকআউটের এই লড়াইয়েও জাপানের রক্ষণভাগের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারেন ব্রাজিলের এই তারকা।

নেইমার ছাড়াই অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে ছন্দে আছে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তো আছেন গোল্ডেন বুটের দৌড়েও। এছাড়া রদ্রিগো ও ব্রুনো গিমারাইসরাও প্রতিপক্ষের জন্যই বড় হুমকি।

অন্যদিকে জাপানের শক্তি তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং দলগত ফুটবল। গ্রুপ পর্বে যার কিছুটা নমুনা দেখা গেছে। ফলে ব্রাজিলকেও দেখেশুনেই মাঠে নামতে হবে। একটা ভুলই তাদের ছিটকে দিতে পারে আসর থেকে।

তাই কাগজে-কলমে ব্রাজিল ফেভারিট হলেও শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে জমজমাট এক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews