ফরিদপুরে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের বক্তব্যের সময় অনুসারী নিয়ে হট্টগোল করার অভিযোগ উঠেছে দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের মাল্টিপারপাস হলরুমে এ ঘটনা ঘটে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরিদপুর অঞ্চলের কেন্দ্র উদ্বোধন উপলক্ষে সেখানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম।
এর আগে, সকালে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটে পুরোনো বাস টার্মিনাল এলাকায় আজিজ ম্যানশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। আমন্ত্রিত অন্য দুই সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতেই ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন তিনি। পরে মোনাজাত চলাকালে উপস্থিত হন সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এ ছাড়া উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত হন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম।
তবে উদ্বোধনস্থলে শহিদুল ইসলাম উপস্থিত হওয়ার আগেই দেড় কিলোমিটার দূরে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের মাল্টিপারপাস হলরুমে আলোচনা সভায় চলে যান শামা ওবায়েদ। বেলা ১১টার দিকে আলোচনা শুরু হয়। তখন বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্য দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। আলোচনা সভার ব্যানারেও প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে তাদের নাম উল্লেখ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরু করেন শামা ওবায়েদ। বক্তব্যের ছয়–সাত মিনিটের মধ্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও শহিদুল ইসলাম অনুসারীদের নিয়ে হলরুমে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে মঞ্চে উঠে প্রধান অতিথির জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসেন নায়াব ইউসুফ। বিশেষ অতিথির চেয়ারে বসেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় নায়াব ইউসুফ ও শামা ওবায়েদের অনুসারীরা দুই পাশে অবস্থান নিয়ে তাদের নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ সুপার নজরুল ইসলামসহ পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এখানে কোনো রাজনীতি করতে আমি আসি নাই। এখানে আমাকে প্রধান অতিথি হিসেবে ইনভাইট করা হয়েছে। আজ আমি যদি এখানে না আসতাম, তাহলে ঢাকায় আমার আরও কাজ ছিল। আমাকে বলা হয়েছে ১০টার সময়, আমি ১০টার মধ্যেই এসেছি। আপনাদের দলীয়করণের কারণে প্রধান অতিথিকে যদি আক্রমণ করেন, তাহলে ঠিক হবে না। কারণ, আমাকে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।’
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধি যদি এ ধরনের আচরণ করেন, তাহলে জনগণ কী শিখবে? সকাল ১০টায় শুরু হবে কি না, ১০টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে—সেটা আমার হাতে ছিল না। এখানে আমি সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। সুতরাং, এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা যদি মন পরিষ্কার না করে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে না পারি, তাহলে বলে দেন—আমি আসব না। আপনার সদর থেকেও আমার নির্বাচনী এলাকায় ঢোকা হয়, কিন্তু আমি তো কখনো কিছু বলি না।’
এদিকে, বক্তব্য শেষ করে মঞ্চে চেয়ার না পেয়ে সেখান থেকে চলে আসার উদ্যোগ নেন শামা ওবায়েদ। তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এইচ এমন আমান উল্যাহর চেয়ারে তাকে বসতে দেওয়া হয়। এরপর দুই সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ ও শহিদুল ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আয়োজকরা। একপর্যায়ে শহিদুল ইসলামকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়। তখন চেয়ার থেকে উঠে অনুসারীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তখনো দুই পক্ষের অনুসারীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। এ সময় হলরুমে উপস্থিত অধিকাংশ শিক্ষকরাও চলে যান। তাদের চেয়ারে বিএনপির নেতা–কর্মীরা বসে পড়েন।
এরপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত যে এখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল। এটা কাকতালীয় না, আসলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধনের কথা ছিল সকাল ১০টায়। ফরিদপুর সদরের এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ আমাকে জানানোর পরে হয়তো আমাদের দুই–তিন মিনিট দেরি হয়েছিল। এর জন্যও এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের দুঃখ প্রকাশ করছি।’
পরে বক্তব্য দেন নায়াব ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘বাবুল ভাইয়ের বক্তব্যের পরে আমার বক্তব্য বেমানান হয়ে যায়। ফরিদপুরে আমাদের পরিবারের পরিচয় একদিনের না, ফরিদপুর সদরে আমাদের দেড় শ বছরের অবদান। আমরা শিক্ষার ব্যাপারে কোনো দিনও রাজনীতি করি নাই। আমরা রাজনীতির পরিবার, রাজনীতি আমরা করবই।’
বিডি প্রতিদিন/জেডএ