দেশের পরিস্থিতি ও পরিবেশের উপর ভিত্তি করে নিত্যদিনের ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে। দেশের নানা আবেগময় ঘটনার বর্ণনা সামনে আসলেও অধিকাংশই হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে দেশের মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় এক বৃদ্ধার করুণ মৃত্যুতে উচ্চ শিক্ষার উপর প্রশ্ন উঠে যায়। শেষ জীবনে এসে বৃদ্ধা মা পাইনি কোনো সন্তানদের যত্ন। অযত্ন আর অবহেলায় জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত অবস্থায় একই রুমে পড়ে রইলেন ৫-৭ দিন। জানতেন না কেউ। অতচ, সন্তানরা হলেন একজন বুয়েট শিক্ষক, একজন সচিব ও একজন কানাডা প্রবাসী। দেখা যাচ্ছে সন্তানরা ঠিকই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন এবং ভালো অবস্থানেও আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ছিল নৈতিকতার বড়ই অভাব। নীতিহীন আদর্শ ও উচ্চ শিক্ষার কোনো অর্থ নেই।

অতএব, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পূর্বে নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া উচিত।

-আবদুর রশীদ, শিক্ষক : উত্তর সাতকানিয়া দারুল আরকাম একাডেমি।

কারিগরি শিক্ষায়

সংস্কার প্রয়োজন

বাংলাদেশের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলাফল প্রকাশে অসংগতি, খাতা মূল্যায়নের প্রশ্নবিদ্ধ পদ্ধতি, বোর্ড চ্যালেঞ্জের অকার্যকারিতা এবং দীর্ঘ সেশনজটের কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রতিবছর দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও অপ্রত্যাশিতভাবে ফেল, “রেফার্ড” কিংবা “ড্রপ আউট” ফলাফল পাচ্ছে। অনেকেই বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার পরও ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে পায় না। ফলে শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, আসলেই কি পরীক্ষার খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়, নাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করেই ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে?

অসংখ্য শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তারা পরীক্ষায় ভালো লিখেও প্রত্যাশিত নম্বর পাচ্ছে না। আবার একই ধরনের উত্তর লিখেও কেউ পাশ করছে, অন্যদিকে কেউ অকৃতকার্য হচ্ছে। এ ছাড়া সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত সিলেবাস, পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনার অভাব এবং দ্রুত কোর্স সম্পন্ন করার চাপ শিক্ষার্থীদের আরও বিপাকে ফেলছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। কেউ হতাশ হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে, কেউ পরিবার ও সমাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘ সেশনজটের কারণে চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা একটি দেশের দক্ষ জনশক্তি গঠনের অন্যতম ভিত্তি। অথচ এ খাতের শিক্ষার্থীরাই যদি অবমূল্যায়নের শিকার হয়, তাহলে দক্ষ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

তাই সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোর দাবি, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, অভিজ্ঞ পরীক্ষকের মাধ্যমে কার্যকর পুনর্মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে হবে, বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফলাফল নিরপেক্ষ করতে হবে এবং সেশনজট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের।

-মো: তরিকুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews