বিশ্বজুড়ে অস্থির ভূরাজনীতি ও যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। সৃষ্ট এই সংকট শুধুমাত্র যে পরিবহন সেক্টরে সীমাবদ্ধ থাকে ঠিক এমনটি নয়, বরং এটি একটি দেশের পুরো অর্থনীতির ওপর বহুমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কেননা, জ্বালানির সংকটে উৎপাদন ও শিল্পখাতে স্থবিরতা, বিদ্যুৎখাতে অস্থিরতা, কৃষিখাতে নেতিবাচক প্রভাব, পরিবহন ও সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়া, মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, বাণিজ্যঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টিসহ কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা, বাজার ও অফিস সময় পুনর্বিন্যাসসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের এই গৃহীত পদক্ষেপগুলো মূলত বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকেও কাজ করছে। একথা সত্য যে, চাহিদা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এই সংকট মোকাবিলা আরও সহজ হবে। সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে মনে করা হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়ক হবে।

সরকার অতিসম্প্রতি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং মহানগরীর যানজট কমাতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত বা হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করেছে। এ লক্ষ্যে রাজধানীসহ মেট্রোপলিটন এলাকার স্কুলগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন এবং ৩ দিন অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর কয়েকটি স্কুলে এই পদ্ধতি চালুর কথা বলা হলেও ধীরে ধীরে এর কলেবর বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। সরকারের গৃহীত এই পরিকল্পনার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। একদিকে, জ্বালানি সাশ্রয়ে এটি ভালো উদ্যোগ মনে করা হচ্ছে, অন্যদিকে অনেক অভিভাবক ডিভাইস সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসের পক্ষে ও বিপক্ষে নানামুখী ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। করোনা পরবর্তী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যে অপূরণীয় ক্ষতি সেটিকে আজো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। সেইসাথে বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির পরিবর্তে প্রতি বছর পাশের হার বাড়িয়ে, জিপিএ’র সংখ্যা বাড়িয়ে শিক্ষাকে অনেক বেশি অপমানিত করা হয়েছে। এজন্য নতুন সরকার গঠনের পর দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা পুনুরুদ্ধারের বিষয়ে অনেকেই ইতিবাচক মতামত দিয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনেকেই একমত হতে পারেনি।

অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থাপনা আমাদের দেশের সাথে কতটুকু যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট গবেষণার ঘাটতি আছে। কেননা, আমাদের দেশের গ্রামীণ জনগণের সাথে শহুরের জনগণের বড় ধরনের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক বৈষম্য রয়েছে। গ্রামের সাধারণ পরিবারগুলো যেখানে দুবেলা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে দামি স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ কেনা তাদের অধিকাংশের পক্ষেই অসম্ভব। এরসাথে ইন্টারনেটের যোগানে বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া অনেকটা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা এর মত অবস্থা হয়ে দাঁড়াবে। একইসাথে গ্রামীণ ও শহুরে জীবনকাঠামোয় ব্যাপক অবকাঠামোগত বৈষম্যও পরিলক্ষিত হয়। যেমন, গ্রামে কোনরকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সমস্ত দিনরাত থেমে থেমে লোডশেডিং হয়। অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেটের ধীরগতি কচ্ছপ গতিকেও হার মানায়। এই অবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া অচিন্তনীয়। এছাড়াও প্রান্তিক পর্যায়ের অধিকাংশ বাবা-মা প্রযুক্তিতে দক্ষ নয়। ফলে পড়াশোনার নামে শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোনের অপব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি শতভাগ। এমনিতেই প্রযুক্তির অপব্যবহারে আমাদের কিশোর তথা তরুণ সমাজ বেশ পারদর্শী। অনেকক্ষেত্রে এই কিশোর সমাজ অভিভাবিকের গঠনমূলক সিদ্ধান্তকে অমান্য করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়। তার উপর অনলাইন ক্লাসের অছিলায় সারাক্ষণ ডিজিটাল ডিভাইসের সান্যিধ্য তাদেরকে একধাপ খারাপের দিকে এগিয়ে দেবে সেটা অনুমান করা যায়।

আবার অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র গ্রামেই নয় শহরেও নানান সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি রয়েছে। শহরে অধিকাংশ বাবা-মা উভয়েই চাকরিজীবী। তারা সন্তানদের স্কুলে দিয়ে কর্মক্ষেত্রে যায় এবং অফিস শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে অনলাইন ক্লাসের সময়সূচী নিঃসন্দেহে শেষ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বাসায় শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন দিয়ে একা রেখে যাওয়াটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি যাদের একাধিক সন্তান রয়েছে তাদের পক্ষে সন্তানদের জন্য আলাদা মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করাও অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য। এই সিদ্ধান্তে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিক্ষার্থীরা কিশোর অপরাধের মতো ভয়ংকর পথে পা বাড়াতে পারে। সেইসাথে উল্টো অনলাইনের ক্লাস ব্যবস্থাপনা নিঃসন্দেহে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য, পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধ পড়া বাদে আলাদাভাবে শীট দেওয়ার রীতিকে আরও বেশি চাঙ্গা করবে। এজন্য অভিভাবকরা, কোনোভাবেই অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে পারছে না। অনলাইন ক্লাসের পক্ষে নন শিক্ষাবিদরাও। এজন্য অনলাইন-অফলাইনের সমন্বিত এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন অযোগ্য এবং বৈষম্য বাড়াবে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই। বরং ক্লাসের সময় কমিয়ে হলেও সশরীরে ক্লাস চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।

একটু পেছনে ফিরে যেতে চাই। খুব বেশিদিন আগের কথা নয় এই বছর দশেক আগেও, গ্রাম-মফস্বলের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিলনা। তখন শিক্ষকরা বিদ্যুৎ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পাঠদান করেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে শ্রেণি কক্ষে অধিক আলো বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা থাকত। সেজন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ত না। আবার অধিকাংশ স্কুল ক্যাম্পাসে বড়সড় মাঠ থাকে। সেখানেও পাঠদানের কার্যক্রম চলত। যদি বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থা করা হয় তাহলে আমি বলব বিদ্যুৎ ছাড়াও যে বিকপ্ল ব্যবস্থায় স্বশরীরে পাঠদানের ব্যবস্থা করার উপায় আছে সে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাই উত্তম। আর যদি প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতেই অনলাইন ক্লাস চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময়সীমা সীমিত করা যেতে পারে। একথা মনে রাখতে হবে যে, স্কুল-কলেজের পরিবেশ ছাড়া শিক্ষার্থীর সামাজিক বিকাশ অসম্ভব।

এখন আসি বিদ্যুৎ ঘাটতির বিকল্প সমাধান নিয়ে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে জ্বালানি তেল তথা ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল এর সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবার এই ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল উভয়ই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরেই জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ফার্নেস অয়েল অন্যতম প্রধান উৎস। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২৩ শতাংশ এসেছে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে। যদিও একসময় প্রাকৃতিক গ্যাস ছিল প্রধান উৎস (৪৬%-এর বেশি), কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে সরকার তেলের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। ফার্নেস অয়েল বা ডিজেল থেকে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ১৭ টাকা, যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসে খরচ ৪ টাকার আশেপাশে। উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে এই খাতে ভর্তুকির বোঝা বাড়ছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রাকৃতিক গ্যাস আমাদের দেশেরই সম্পদ। দেশের এই মূল্যবান সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়েও আমাদের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসে শহুরে বহু মানুষের রান্না চলে। হোটেল, রেস্তোরা থেকে শুরু করে বহু কারখানা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কোন ক্ষেত্রে গ্যাস ব্যবহারে নিয়ন্ত্রিত কোন ব্যবস্থা নেই। সেই মান্ধাতার আমলে চালুকৃত ১ চুলা/২ চুলা ভিত্তিক নির্ধারিত মাসিক ফিস এখনো চালু আছে। যেখানে একজন গ্রাহক সারাদিনও যদি চুলা জ্বালিয়ে গ্যাসের অপচয় করে তাহলে সেটি দেখার কেউ নেই। কারখানার ক্ষেত্রেও ঐ একই অবস্থা। বেহিসাবিভাবে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসে যেহেতু বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কম সেহেতু বিদ্যুতের কৃচ্ছতা সাধনে অবশ্যই প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু ব্যবহার জরুরি। এককথায় প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় রোধ করতে হবে। গৃহস্থলিতে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারের উপর আবশ্যিকভাবে সকল গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনতে হবে। সেইসাথে সকল অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিভিন্ন উৎস থেকে দেশের উৎপাদিত বিদ্যুতের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারিভাবে ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। প্রতি বছর দেশে উৎপাদিত ও আমদানি বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ পূরণ হয়। শেষ হওয়া অর্থবছরে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা আরো বেড়েছে বলে জ্বালানি খাতের আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমদানি বিদ্যুতের পরিমাণ ৪০ থেকে বেড়ে প্রায় ৬২ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি এ বিদ্যুতের পরিমাণ আরো বেড়েছে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে। এই চাহিদা বাড়ার পেছনে নানাবিধ কারণের মধ্যে নিঃসন্দেহে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অনেকাংশে দ্বায়ী। কেননা, পূর্ব হতে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাগামহীন যাত্রা শুরু হয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে ৫০ লাখের উপরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। কোনো নীতিমালা ও নিবন্ধন না থাকায় সহজেই এই বাহন আমদানি, বিক্রি ও চলাচল আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পঙ্গপালের মতো এসব অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রমতে, দেশে কয়েক হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। প্রতিটি চার্জিং পয়েন্টে ৫-২০টি রিকশা চার্জ দেওয়া হয়। একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জে দৈনিক ১০-১২ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো স্থানে এই সংখ্যা আরও বেশি। ফলে বিদ্যুৎঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশাকে দ্বায়ী করা যায়। যেখানে প্যাডেলচালিত রিকশায় একজন চালক কায়িক শ্রম দিয়ে রিকশা চালনা করায় সেখানে কোন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের চাহিদা নিরসনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না কিংবা এখনো পর্যন্ত তাদের প্রতি কোনরকম শর্ত আরোপ করা হয়নি। সরকারের যথাযথ দপ্তরকে এই বিষয়ে এখুনি পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা বন্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে প্যাডেলচালিত রিকশা এবং সাইকেল ব্যবস্থার প্রচলন শুরু করা বাঞ্ছনীয়। বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরনে অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থাপনার চিন্তা না করে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে সেটি হবে সত্যিকারের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উপযুক্ত পদক্ষেপ।

আর যদি অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করতেই হয় তাহলে অবশ্যই কিছু বিষয়ের বিবেচনা অবশ্যই জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্মার্টফোন অথবা ট্যাব বিনামূল্যে যোগান দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা। অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থাপনা যদি চালু করতেই হয় তাহলে দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্বিবদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। যেখানে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এই সুবিধা নিতে পারবে সেখানে স্কুল-কলেজের শতকরা ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী এ সিদ্ধান্তের সুফল নিতে অনুপযুক্ত। বিষয়গুলো নিয়ে যথাযথ গবেষণা করতে হবে। অন্যথায়, এটি কেবল শহর আর গ্রামের মধ্যে শিক্ষার এক বিশাল দেয়াল তৈরি করবে। সার্বিক বিবেচনায় এই অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থার কথা বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের রীতি পুনর্বহাল রাখতে হবে। অন্যথায় ভুক্তভোগী অভিভাবকদের নীরব কান্না আর শিক্ষার্থীদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ দেখার দায়ভার নীতিনির্ধারকদের নিতে হবে। নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে, একটি প্রজন্মের স্বপ্ন এভাবে ডিজিটাল বৈষম্যের বলি হতে পারে না। তা না হলে অনলাইন ক্লাস শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি না হয়ে একটি প্রজন্মের স্বপ্ন ভঙ্গের আয়োজন করা হবে।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট।
[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews