মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে তুরস্ককে অবহিত করেছে ইরান। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান সংলাপের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোনালাপে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দা জানানো বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।
ফোনালাপে আরাগচি লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এবং দেশটির ওপর ইসরায়েলি হামলা বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, লেবাননের জনগণের প্রতিরোধকে ইরান সবসময় সমর্থন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান বজায় থাকবে।
অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, আঙ্কারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের সব ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো পক্ষ যেন সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে বা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ