শনিবার শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে ব্রাজিলিয়ান লিগে নাটকীয়ভাবে ২-২ ব্যবধানে ড্র করে সান্তোস। এই ম্যাচে দলকে হার থেকে বাঁচান ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার দা সিলভা। তবে মাঠের এই বীরত্ব ড্রেসিংরুমের ঘটনার কাছে ম্লান হয়ে গেছে। বিরতির সময় কয়েকজন সতীর্থের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়েই তৈরি হয়েছে সংকট।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, সাবেক পিএসজি খেলোয়াড় নেইমার দলের কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তীব্র বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এদের মধ্যে প্রধান ছিলেন গ্যাব্রিয়েল বনতেম্পো এবং জোয়াও অ্যানানিয়াস। ক্লাব মনে করছে, এই ঝামেলার কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে তাদের পারফরম্যান্স খারাপ হয়েছে। এতে ড্রেসিংরুমের ভেতরের উত্তেজনাও আরও বেড়ে গেছে।
বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পর এটাই ছিল নেইমারের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচে দুটি গোল করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করে সমতা ফেরান তিনি। সান্তোস শুরুতে এগিয়ে থাকলেও পরে প্রতিপক্ষ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেছেন তিনি। যার ফলে তাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধও থাকতে হবে।
তবে পর্দার আড়ালে যা ঘটেছে, তা সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বনতেম্পোকে উদ্দেশ করে কড়া কথা বলেছিলেন নেইমার। তাকে ‘নীচ’ প্রকৃতির মানুষ বলে আখ্যা দেন তিনি এবং সতর্ক করে বলেন, আগামী মৌসুমে শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে সে দ্বিতীয় বিভাগে খেলবে। তরুণ এই খেলোয়াড়ের নিম্নমুখী ফর্মের দিকে ইঙ্গিত করেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের ঘনিষ্ঠজনরা এই অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। বনতেম্পো এবং অ্যানানিয়াস দুজনেই নিশ্চিত করেছেন, দুই অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ্যে একটা তর্ক হয়েছিল। তবে সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কটূক্তির অভিযোগ তারা সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
এই সংকট গভীর হতে থাকায় এবং দলের ঐক্যের জন্য হুমকি হয়ে ওঠায় সান্তোস জরুরি ভিত্তিতে একটা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। এর মাধ্যমে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে চাইছে ক্লাবটি। তাদের লক্ষ্য সহজ - উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে দলের সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনা।