মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় অবস্থিত হাওর কাউয়াদীঘি। হাওরে ছোট বড় প্রায় ২০টি খাল ও ছড়া রয়েছে। খালগুলো এখন মৃতপ্রায়। নাব্যতা সংকট, ভরাট, দখল, দূষণ ও অবহেলায় হাওরের খালগুলো অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
এতে খালের পানিনির্ভর বোরো আবাদকারী কয়েক হাজার কৃষকের জীবন-জীবিকা এখন বিপন্ন, সেচ সংকটের কারণে বোরো চাষীরা প্রতি বছর পড়ছেন লোকসানে, হুমকিতে পড়ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ।
হাওর কাউয়াদীঘীতে প্রতিবছর ব্যাপক বোরো আবাদ হয়। খালের ওপর দুই উপজেলার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান আবাদের সেচ নির্ভরশীল। খালগুলে ভরাট হওয়ায় পানি সংকটে এখন কৃষকেরা পানির অভাবে সময়মতো বোরো জমিতে সেচ দিতে পাড়ছেন না।
এছাড়া হাওড়ে বিস্তৃত এই খালগুলো ছিল হাওরে চলাচলের পথ ও সেচের উৎস। এখন খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দুই পাড় দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, হাওরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত মাছুয়ার খালের দুই পাড় দখল করে কেউ তৈরি করছেন পুকুর বা ডোবা, আবার কেউ কেউ বানিয়েছেন চাষাবাদের জমি। এমন চিত্র হাওরে প্রবাহিত দিতলা, দলিধারা, কইলতা ও মিটুপুরের খালসহ প্রায় সব খাল ও ছড়ার।
দখলের বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, এক শ্রেণীর প্রভাবশালী লোক হাওরের খাল, ছড়া দখল করে কেউ কেউ বানিয়েছেন পুকুর বা ডোবা আবার কেউ বানিয়েছেন চাষাবাদের জমি।
হাওর পাড়ের কৃষক জুয়েল, সামছুল, জাবেল, খায়রুলসহ একাধিক কৃষক বলেন, পূর্বে হাওরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খাল ও ছড়াতে আমরা গরু-মহিষ ছড়াতাম, এখন দখলের কারণে এতো ছোট হয়েছে যে মানুষ চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ভরাটের কারণে খালে পানি থাকছে না। পানির অভাবে জমিতে সময়মত সেচ দিতে পারছি না। তাই সেচের কারণে প্রতিবছর আমাদের ধানি জমিতে ফসল নষ্ট হয়।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হাওরের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ