শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে। এখন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার পালা। এরপরই গঠন হবে মন্ত্রিপরিষদ। তবে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার ঢেউ বয়ে যাচ্ছে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিয়ে। আসলে কে হতে চলেছেন নতুন সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী। এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে বেশ কজন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক নির্বাচিত হয়েছেন। আবার সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও রয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে খেলাধুলার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের মধ্য থেকে কেউ কি ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব পাচ্ছেন?

নির্বাচনের আগে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচিত হচ্ছিল জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক তারকা গোলরক্ষক আমিনুল হকের নাম। ঢাকা-১৬ আসন থেকে তিনি বিএনপির হয়ে নির্বাচন করেন। জোর আওয়াজ ছিল নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে ক্রীড়াঙ্গনের। তিনি তাঁর আসনে জিততে পারেননি। অবশ্য হার মানতেও পারেননি। তিনি তাঁর আসনে ভোট পুনর্গণনার  দাবিও তুলেছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খেলাধুলার সঙ্গে অতীত ও বর্তমানে যারা জড়িত রয়েছেন তাদের মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মনিরুল হক চৌধুরী, আলী আসগার লবি, শরিফুল আলম, খায়রুল কবির খোকন, কামরুজ্জামান রতন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও ইশরাক হোসেন জয়ী হয়েছেন। আবার সাবেক দুই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও মির্জা আব্বাস জয়ী হয়েছেন।

১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রকৃত ক্রীড়াঙ্গনের লোক বলে পরিচিতিদের মধ্যে একজনই ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হয়েছিলেন। তিনি সাদেক হোসেন খোকা। ১৯৯১ সালে বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাঁকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর আগে কয়েক মাস মির্জা আব্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। অতীতে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত অনেকেই মন্ত্রীও হয়েছেন। তাই হাফিজ উদ্দিন, মনিরুল হক চৌধুরী যদি ক্রীড়ামন্ত্রী না হন তাহলে তাদের অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলী আসগার লবি তো ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে জেতার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হন। তিনি মন্ত্রী হলে ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব কি পাবেন? মির্জা আব্বাস ও নিতাই রায় অতীতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ক্রীড়ামন্ত্রী হয়েছিলেন। মির্জা আব্বাস এবারও মন্ত্রী হতে চলেছেন তা নিশ্চিত। কিন্তু ক্রীড়ায় হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। নিতাই রায় মন্ত্রী যদি হয়েও থাকেন, তা ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে হতে পারেন।

বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে তিনি বিএনপির বিভিন্ন প্রার্থীর প্রচারে অংশ নেন। সে সময়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- বিএনপি নির্বাচনে জিতলে কে ক্রীড়ামন্ত্রী হবেন? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘ইনশাল্লাহ আমরাই নির্বাচনে জিতব এবং এটাও বলতে পারি ক্রীড়ামন্ত্রী হবেন ক্রীড়াঙ্গনের যোগ্য লোকই।

তাবিথের কথা যদি মিলে যায় তা হলে ক্রীড়াঙ্গনের কে সেই যোগ্য ব্যক্তি যিনি ক্রীড়ামন্ত্রী হতে চলেছেন। এ ক্ষেত্রে আমিনুল কি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেকনোক্র্যাট ক্রীড়ামন্ত্রী হবেন? সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর বাবার আসনে। তিনি তো দীর্ঘ দিন ধরেই ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত। দেশের জনপ্রিয় ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নের সভাপতিও তিনি। তাহলে কি তিনিই হতে যাচ্ছেন ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক? অবশ্য তাঁকে ঘিরে গুঞ্জনও রয়েছে সামনে মেয়র নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি থেকে তিনি অংশ নিতে পারেন।

মেয়র নির্বাচনে সংসদ সদস্যের পদও ছাড়তে হয়। দেখা যাক কী হয়। ঢাকা-১৩ আসন থেকে নির্বাচিত ববি হাজ্জাজ ও ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচিত শেখ রবিউলকে নিয়ে শোনা যাচ্ছে সম্ভাব্য ক্রীড়ামন্ত্রীর তালিকায় তাদের নামও রয়েছে। জামালপুর থেকে নির্বাচিত ঢাকা মোহামেডানের পরিচালক রশিদুজ্জামান মিল্লাতেরও নাম শোনা যাচ্ছে। নরসিংদী থেকে নির্বাচিত সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল কবির খোকনও আছেন এ তালিকায়। তবে যিনিই ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব নিন, একটা ব্যাপার লক্ষণীয় যে, ক্রীড়ার ক্ষেত্রে ফুল নাকি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে পূর্ণ ক্রীড়ামন্ত্রী করা হয়েছিল। অবশ্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews