কারাগার থেকে বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়ে হাইকোর্টে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মোঃ লিটন আহমেদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন রিটে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর করা আবেদন কেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি এবং বিলম্বে জমা হলেও মনোনয়ন গ্রহণের নির্দেশ দেয়ার আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। রিটে বাংলাদেশ সরকার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব এবং ঢাকা জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, ব্যারিস্টার সুমন একজন আইন মান্যকারী এবং বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন অ্যাডভোকেট এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে ও সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই আবেদন দায়ের করেছেন। গত ৭ই এপ্রিল প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন সূচি ঘোষণা করে, যেখানে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ১৬ই এপ্রিল এবং নির্বাচন তারিখ ১৯শে এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। ব্যারিস্টার সুমন বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। তার পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বিধি অনুযায়ী প্রার্থীর নিজস্ব স্বাক্ষর আবশ্যক। তিনি বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জে আটক আছেন এবং বিভিন্ন মামলায় বিচারাধীন থাকায় নিজে উপস্থিত হতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে যথাযথ অনুমতি ছাড়া তার স্বাক্ষর গ্রহণ সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আইনজীবী লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যারিস্টার সুমন বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্বাচনি ফরমে তার স্বাক্ষর প্রয়োজন। এ কারণেই আজ ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার স্বাক্ষর সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২২শে অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ব্যারিস্টার সুমন। হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক থাকলেও আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবী এই শীর্ষ সংগঠনের নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।