২০২৩ সালে ‘বুদ্ধ নারিকেল’ আর ‘ইলেকট্রিক ডেইজি’ গাছের দুটি ভিডিও করলেন। ফেসবুকে প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া। দিনে দিনে প্রথমটির ভিউ হলো ৬০ লাখ, দ্বিতীয়টির ১ কোটি ৬০ লাখ। বাড়তে থাকল ফলোয়ার। এখন ফেসবুকে তাঁর অনুসারী ১৪ লাখের বেশি।
নিয়মিত ভিডিও তৈরি করতে তিনজনের ভিডিও টিম আছে। এখন সব ভিডিওই মানুষ দেখে, প্রতিক্রিয়া দেয়। তাঁর সবচেয়ে বড় আনন্দ যখন দেখেন কোনো তরুণ তাঁর ভিডিও দেখে গাছ লাগিয়েছে।
উদ্ভিদের বাংলা নাম নিয়ে যে বিভ্রান্তি, একই নামে একাধিক গাছ, অনেকেই এখন এটা নিয়ে কাজ করছেন। আজহারুলও তাঁদের একজন। বৃক্ষ নিয়ে তাঁর ঘরে আছে বইপত্রের বড় সংগ্রহ। নতুন কোনো বই বের হলে জোগাড় করার চেষ্টা করেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বন্ধুরা তো রয়েছেই। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি হলে তাঁদের সহায়তা নেন। কাজ করতে গিয়ে দ্বিজেন শর্মাসহ বহু নিসর্গীর সান্নিধ্য পেয়েছেন।
ভিডিও করতে গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতাও হয়েছে। ২০২৩ সালে বোটানিক্যাল গার্ডেনে একবার ভিডিও করার সময় মাথার ওপর সাপ ফণা তুলেছিল। তবু ভিডিও থামাননি। ভিডিও শেষে দৌড়ে পালানোর ভিডিওটিও ফেসবুকে আছে।
স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার। থাকেন মিরপুরে। বড় মেয়ে যারীন তাসনিম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। ছোট ছেলে মাশরাফি বিন আজহার এবার এইচএসসি দেবেন। স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জাহান ঘর সামলান। ছেলেমেয়ে দুজনও নাকি বাবার মতোই বৃক্ষপ্রেমী। একজনকে সঙ্গে নিয়ে অনলাইনে ভেষজ পণ্য বিক্রির দুটি প্রতিষ্ঠান করেছেন আজহারুল ইসলাম। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই পণ্যের বিক্রি ভালো।
গাছই তাঁর মূল জায়গা। গাছের কাছে গেলে আজহারুল ইসলাম খানের মনে হয় আপন ভুবনে আছেন। গাছ রোপণের আগে ও পরের নানা বিষয়ে অনলাইনে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
দেশের নানা প্রান্তের স্কুলের শিশুদের নিয়ে জঙ্গল ভ্রমণ করা তাঁর একটি ইচ্ছা। উদ্ভিদের প্রতি শিশুদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে চান তিনি।
আজহারুল ইসলামের একটাই বার্তা—প্রকৃতিকে ভালোবাসুন। আপনার প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে গাছ লাগান।