অসুস্থ হলে অনেকেই এখন অনলাইনে পরামর্শ নেন। দিনে প্রায় ৪ কোটি মানুষ ব্যবহার করেন ‘চ্যাটজিপিটি হেলথ’ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্য সহায়ক টুল। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে এটি অনেক সময় জরুরি চিকিৎসার পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
‘নেচার মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় ২১টি ভিন্ন চিকিৎসা শাখা থেকে ৬০টি রোগের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। ছোটখাটো সমস্যা থেকে শুরু করে জীবন-সংকটপূর্ণ অবস্থা—সবই ছিল সেখানে। তিনজন স্বাধীন চিকিৎসক ৫৬টি মেডিকেল সংস্থার নির্দেশিকা মেনে প্রতিটি ঘটনার গুরুত্ব নির্ধারণ করেন। পরে ১৬টি ভিন্ন পরিস্থিতিতে মোট ৯৬০ বার চ্যাটজিপিটি হেলথকে পরীক্ষা করা হয়।
মাউন্ট সাইনাইয়ের আইকান স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকেরা জানান, স্পষ্ট জরুরি অবস্থায় টুলটি মোটামুটি ঠিক পরামর্শ দিলেও, যেসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন বলেছেন, তার অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে সঠিকভাবে জরুরি সেবা নেওয়ার পরামর্শ দেয়নি।
গবেষণার প্রধান লেখক গিরিশ এন. নাদকরনি বলেন, ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অসংগত ছিল। এতে জরুরি চিকিৎসা সিদ্ধান্তে অ্যালগরিদমের ঝুঁকি স্পষ্ট হয়।
আত্মহত্যা-সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়। কোথাও অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা এসেছে, আবার কোথাও স্পষ্ট আত্মক্ষতির ইঙ্গিত থাকলেও সতর্কতা দেখানো হয়নি।
তবে গবেষকেরা এআই পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেননি। তারা বলেন, শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে বা গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের আইজ্যাক কোহানে বলেন, লাখো মানুষ যদি এআইয়ের ওপর ভরসা করে জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল