রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ১১ বছর আগে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মো: আব্দুল মমিনকে (৪২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আলী মনসুর আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক।
দণ্ডিত মমিন রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মরহুম জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।
এই ধর্ষণ মামলার আরেক আসামি আব্দুল মমিনের ভাই এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত।
মামলার বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক জানান, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ঘরে একা রেখে বাড়ির পাশের দোকানে গিয়েছিলেন তার মা।
বাকপ্রতিবন্ধী ওই কিশোরীকে ঘরে একা পেয়ে তখন ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আব্দুল মমিন। বাড়িতে ফিরে কিশোরীর মা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে মমিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর শিশুটির পরিবার মমিনের বাড়িতে গিয়ে বিচারের দাবি জানালে তার ভাই এরশাদ বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দেন এবং আব্দুল মমিনকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন।
পরে ২৩ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা আব্দুল মমিন ও তার ভাই এরশাদকে আসামি করে রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় দীর্ঘ ১১ বছর পর মামলা স্বাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের আসামি আব্দুল মমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
পাশাপাশি আব্দুল মমিনকে দুই লাখ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক আলী মনসুর।
মামলার এ রায়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর মা ও মামলার বাদি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও জানিয়েছেন এ আইনজীবী।