মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের যে কনসেপ্ট তা যেকোনো দেশের শিল্পে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধিতে অনন্য মাত্রা যুক্ত করে বলে মন্তব্য করেছেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। সোমবার (২২ জুন) এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা নিয়েও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল পরিচালনার মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে। তবে প্রাকৃতিক সম্পদ বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটা সুবিধাজনক।

ভৌগোলিকভাবে বিশেষ করে প্রাকৃতিক বন্দর এবং পাহাড়, নদী ও সমতল এই চারের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম সর্বদা শিল্পায়ন তথা বিনিয়োগের উপযুক্ত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, তাহলে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল কেন নয়? চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক নগরী বলে আখ্যায়িত করা হলেও তা প্রকৃতরূপে বাস্তবায়নের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন জরুরি। আমি মনে করি, এই অঞ্চলে দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সরকারের সেই পরিকল্পনা এবং একই সাথে নতুন শিল্পাঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের অংশ।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে অর্থাৎ চট্টগ্রাম বন্দর এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। চট্টগ্রাম তথা দেশের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেসরকারি খাতের উন্নয়নকে সর্বদা অগ্রাধিকারে রাখা জরুরি এবং এজন্য শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই।

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের অতি দ্রুত জায়গা নির্ধারণের পাশাপাশি ফিজিবিলিটি স্টাডি ও অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া আনোয়ারাতে যে সিআইজেড প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে সেটি মাথায় রেখে কাছাকাছি আরেকটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের জন্য যথাযথ যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের মতো প্রয়োজনীয় ইউটিলিটিজের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী টেকসই পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে হবে। একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল শুধু বিনিয়োগ বৃদ্ধি নয়, একসাথে অনেক খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীর যাতায়াত বৃদ্ধির ফলে পর্যটনের বিকাশ ঘটে। তাই পর্যটন শিল্পের জন্যও আধুনিক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যেহেতু মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে বিদেশিদের পাশাপাশি দেশি উদ্যোক্তাদেরও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তাই দেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন জোগানের বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনাসহ ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে শিল্পায়ন যেমন টেকসই হবে তেমনি তা দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক ও অধিক কর্মসংস্থানের উৎস হয়ে উঠতে পারবে।

গত ১৭ জুন দেশে প্রথমবারের মতো দুটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, দেশের অর্থনীতিতে গতি আনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যেই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুটি স্থানে মোট প্রায় ৬০০ একর জমিতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মাতারবাড়ী এলাকায় প্রায় ৩০০ একর জমিতে একটি অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। অপরটি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় স্থাপন করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে দুবাইয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাণিজ্যিক সুবিধার কারণে সেখানে বিপুল বিনিয়োগ এসেছে এবং সেটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।





Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews