ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ঘোষিত সাধারণ ছুটির প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্যবাহী যানচলাচল সীমিত থাকা এবং পাইকারি আড়তগুলোতে কার্যক্রম আংশিক বন্ধ থাকায় বাজারে পণ্যের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়েছে মুরগি, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন প্রকার সবজির দামে। নির্বাচনের পরপরই ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২১০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন খামার থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
পেঁয়াজের বাজারেও স্বস্তি নেই যেখানে পুরোনো দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে ভোটের আগের তুলনায় প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম, মুলা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড করলা ও মটরশুটির দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীরা জানান নির্বাচনের সময় যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ির কারণে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হয়েছে এবং ভাড়াও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে পণ্যবাহী গাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ছিল। ক্রেতা কম থাকায় অনেক দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। বিক্রেতারা আশা প্রকাশ করছেন যে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। তবে তেল, চিনি ও ডিমের মতো মুদিপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং ডিম প্রতি ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এস এম/ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬