যুদ্ধের চেনা সমীকরণ ও কৌশল বদলে দিতে এবার রণক্ষেত্রে মানুষ আকৃতির রোবট বা 'হিউম্যানয়েড রোবট' নামানোর জোরালো প্রস্তুতি শুরু করেছে চীন। বিনোদন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রদর্শনী ছাপিয়ে এবার শত্রুশিবিরে আঘাত হানতে এসব উন্নত প্রযুক্তিকে সামরিক শক্তিতে রূপান্তর করতে চলেছে বেইজিং।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্রমানবদের দৌড়ঝাঁপ, বক্সিং ও গতি দেখে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরপরই নড়েচড়ে বসে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। লাল ফৌজের নিজস্ব সংবাদমাধ্যমে চীনা গবেষকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলা হয়— এই প্রযুক্তিকে অতি দ্রুত সামরিক ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে হবে, যেন তারা রণাঙ্গনে রক্তমাংসের সৈনিকদের চেয়েও বেশি কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে সরবরাহকৃত হিউম্যানয়েড রোবটের সিংহভাগই তৈরি করছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এই প্রযুক্তিতে চীনের একচ্ছত্র প্রভাব সামরিক ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি গোলাগুলির পাশাপাশি বিপজ্জনক অভিযান পরিচালনা, শত্রুপক্ষের নজরদারি তথ্য সংগ্রহ, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের মতো জটিল কাজগুলোতে এসব রোবট ব্যবহার করা হবে।
চীনা সামরিক গবেষকদের ধারণা, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যেই আধুনিক রণাঙ্গনে এ ধরনের রোবট বাহিনীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতি বাস্তবে রূপ নেবে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে মানব সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।