গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোনো শিরোপা জিততে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। একই অবস্থা বিশ্বকাপেও, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ইতিহাস গড়লেও সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়ে ফ্রান্স। তবে ট্রফি না জিতলেও, ব্যালন ডি’অরের জন্য নিজেকে যোগ্য বলে দাবি করেছেন এমবাপ্পে।
সম্প্রতি ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন তিনি।
এমবাপ্পে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এ বছর আমি ব্যালন ডি’অর জিততে পারি। এটা আমার অন্যতম লক্ষ্য, এবং এটা খুব কাছের ভবিষ্যতের লক্ষ্য। অনেকে বলছেন, আমি কোনো ট্রফি জিতিনি ক্লাবের হয়ে কিংবা দেশের হয়ে। কিন্তু এটা তো ব্যক্তিগত পুরস্কার। আমি কখনও দেখিনি, কোনো ব্যালন ডি’অর বিজয়ী সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছে।
নিজের যুক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফরাসি তারকা আরও বলেন, কোনো খেলোয়াড় কি কখনো ১০০ শতাংশ ভোট পেয়েছে? পায়নি। তার মানে সবসময়ই এমন কেউ থাকে, যে মনে করে বিজয়ী খেলোয়াড়টি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিল না।
এমবাপের কাছে ব্যালন ডি’অরের সংজ্ঞা তৈরি হয়েছে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর যুগ থেকে। তার মতে, এই পুরস্কার সাধারণ খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বরং যারা অন্যদের চেয়ে আলাদা কিছু করেন, তাদের জন্য।
এমবাপে বলেন, আমার ব্যালন ডি’অরের ধারণাটা এসেছে মেসি ও রোনালদোর যুগ থেকে। এই পুরস্কার সাধারণ খেলোয়াড়দের দেওয়া হয় না; দেওয়া হয় এমন খেলোয়াড়দের, যারা অন্যদের থেকে আলাদা। আমি মনে করি, এ বছর আমি এমন কিছু করেছি, যা অন্যদের থেকে আলাদা। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমি এটা জিততে পারি।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল করেছেন এমবাপে, লা লিগায় করেছেন ২৫ গোল। এরপর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আরও ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এই পারফরম্যান্সের জন্য ব্যালন ডি’অরের জন্য নিজেকে যোগ্য দাবি করেছেন তিনি। এমবাপ্পের ভাষ্য, আমার চেয়ে ভালো কোনো খেলোয়াড় ছিল না। আমরা অর্জনের কথা বলছিলাম। বড় বড় প্রতিযোগিতায়, যেখানে বিশ্বের সব সেরা খেলোয়াড় অংশ নেয়, সেখানে এত গোল করা বিশেষ করে বিশ্বকাপে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া; ছুটিতে থাকার সময়ও মানুষ আমার সঙ্গে এসব নিয়েই কথা বলেছে।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কীর্তিকে নিজের ক্যারিয়ারের বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন এমবাপে। আরও বিশেষ করে দেখছেন, রেকর্ডটি ভেঙেছেন মেসিকে পেছনে ফেলে।
এমবাপে বলেন, বিশ্বকাপ আসলে কী বোঝায়, সেটা পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন। এটা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের, তারকাদের, ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের মহান খেলোয়াড়দের মঞ্চ। আর ২৭ বছর বয়সেই যখন আপনি নিজেকে বলতে পারেন যে এই প্রতিযোগিতায় আপনার গোলই সবচেয়ে বেশি তখন বিষয়টি সত্যিই অসাধারণ।
তিনি আরও বলেন, আর বিষয়টি আরও বিশেষ, কারণ রেকর্ডটি আমি লিও মেসির কাছ থেকে নিয়েছি যাকে অনেকেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় মনে করেন। এটা সত্যিই দারুণ। এ ধরনের অর্জনই একজন খেলোয়াড়কে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
উল্লেখ্য, ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় কিলিয়ান এমবাপে ছাড়াও জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলে, লামিনে ইয়ামালের মতো তারকারা। ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
আরটিভি/এসআর