দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪নং খামারপাড়া ইউনিয়নের খামারপাড়া (দাসপাড়া, ওয়ার্ড নং-২) এলাকার বাসিন্দা সেন্টু দাস দিপু (৩০) একজন দিনমজুর। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার পিতা বিশু দাস এবং মাতা জয়ন্তী বালা। গত বুধবার (১১ মার্চ ) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, একই উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের বেলপুকুর (পাঠানপাড়া, ওয়ার্ড নং-৫) এলাকার মোঃ রশিদুল ইসলাম (৫০), পিতা-মৃত নোমান শাহ, ওই সময় সেন্টু দাস দিপুর বাড়িতে যান। সে সময় বাড়িতে সেন্টু দাস দিপু ও তার বাবা-মা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
এই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ির আঙ্গিনায় গৃহবধূকে একা পেয়ে জাপটে ধরে।
ভুক্তভোগী নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ঘটানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তাকে মাটিতে ফেলে জোরপূর্বক চেষ্টা চালানো হয়।
এ সময় গৃহবধূ চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং তাকে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পারেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূকে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাকেরহাট হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি গৃহবধূকে গালে কামড় দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী সেন্টু দাস দিপু খানসামা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত মোঃ রশিদুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যায়।
এ বিষয়ে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাসেত সরদার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয় এবং (১২ মে) সকালে গ্রেফতার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, এমন ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে নারীর নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে। তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে অপরাধ দমন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এফএস