টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং লাখ লাখ মানুষের পানিবন্দি ও বিপর্যস্ত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন।
সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি হাফেজ জাকির বিল্লাহ,সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীনুর আলম আকন্দ বন্যাকবলিত এলাকার দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে অনতিবিলম্বে সরকারি-বেসরকারি উদ্ধার তৎপরতা জোরদার এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যায় লাখ লাখ মানুষ আজ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গবাদিপশু হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয় হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং উপদ্রুত মানুষ আশ্রয় ও চিকিৎসার অভাবে চরম অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছেন। একটি স্বাধীন দেশে নাগরিকরা এভাবে খোলা আকাশের নিচে কিংবা বানের পানিতে ভেসে বেড়াবে, তা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিপদের এই কঠিন মুহূর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার কঠিন বিপদ দূর করে দেবেন।’ বন্যা পরিস্থিতির যে ভয়াবহ চিত্র আমরা দেখছি, তা মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। অনেক দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও সরকারি ত্রাণ বা উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়নি বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা সরকারকে দ্রুত বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে সব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।
সমাজের বিত্তবান, তরুণ সমাজ ও সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, যখন দেশের একটা বিশাল অংশের ভাই-বোনেরা তীব্র খাদ্য ও পানির কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তখন আমরা আরাম-আয়েশে দিন কাটাতে পারি না। আসুন, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং আর্থিক সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় ছুটে যাই। বিশেষ করে যুব সমাজ ও ছাত্র জনতাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এই মানবিক সংকটে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছি।