একটি স্মার্টফোন আমাদের জিবনের একটা অপরিহার্য সঙ্গী। আমরা বেশিরভাগ মানুষ সকালে ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে প্রথম যে কাজটি করি সেটি হচ্ছে ফোন দেখা। একটি মোবাইল ফোনের মধ্যে আজকের আবহাওয়া কেমন, রাতে কোনো মেসেজ এসেছে কিনা, আজকের কাজের তালিকা কী এমন সকল জরূরী কাজ সব কিছু এক নজরেই জেনে নেওয়া যায়। এটাই এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা। স্মার্টফোন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয় বরং এখন আমাদের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী।
একজন ভালো সহকারী যেমন আপনার মন বুঝতে পারে, আধুনিক স্মার্টফোনও ঠিক তেমনই। আপনি প্রতিদিন সকাল আটটায় অফিসে যান ফোন নিজেই আগে থেকে রাস্তার অবস্থা জানিয়ে দেয়। আপনি যে গান শোনেন, যে ধরনের খবর পড়েন, কোন সময়ে কী খোঁজেন সব কিছু মনে রেখে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যটি সামনে এনে রাখে। এটা কোনো জাদু নয়, এটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তির ফল।
অফিসে বসের সাথে মিটিং, ক্লায়েন্টের ইমেইলের উত্তর, প্রজেক্টের ডেডলাইন মনে রাখা এই সব কাজে স্মার্টফোন এখন অপরিহার্য। ক্যালেন্ডারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেট করা, ভয়েস রেকর্ডার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা সেভ করা থেকে দেশি-বিদেশি যেকোন ভাষা তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদ করার মতো সকল কাজেই স্মার্টফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ধরনের কাজগুলো করতে আগে আলাদা আলাদা যন্ত্র বা মানুষের সাহায্য লাগত বর্তমানে এই সকল কাজের জন্য একটিমাত্র স্মার্টফোনেই যথেষ্ঠ।
অনেকেই জানেন না যে তাদের স্মার্টফোন প্রতিদিন নীরবে তাদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখছে। কতটুকু হেঁটেছেন, কতক্ষণ ঘুমিয়েছেন, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক আছে কিনা সব তথ্য সংগ্রহ করছে। কেউ যদি হঠাৎ পড়ে যান, ফোন নিজেই বুঝতে পারে এবং পরিচিতজনকে সতর্ক করে দেয়। বর্তমান সময়ে অনেক স্মার্টফোনের সাথে স্বাস্থ্য সচেতন এর এপস থাকে যা আমাদের প্রতিদিনের একটিভিটিগুলো নজরদারিতে রাখে। এমন সকল মোবাইল ফোনের দাম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাবে MobileDokan এর ওয়েবসাইট থেকে।
একাকীত্বের বন্ধু
জীবনে এমন মুহূর্ত আসে যখন কাছে কেউ থাকে না। সেই সময়ে স্মার্টফোন একটি বই হয়ে যায়, গান শুনিয়ে মন ভালো করে দেয়, প্রিয়জনের সাথে ভিডিও কলে কথা বলে মন ভালো করে দেয়। বিশেষ করে যখন মানুষ ঘরবন্দি হয়ে থাকে তখন সাড়া বিশ্বের সংবাদ শোনার মাধ্যমে সময় কাটানো যায়।
স্মার্টফোনেরও নির্দিষ্ট মেমরী থাকে। এই মেমরিতে আমাদের প্রতিদিনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। সেখানে জমা থাকা তথ্যের উপরে সে আমাদের এসিস্ট করে। স্মার্টফোন আমাদের যত বেশি চেনে, তত বেশি আমাদের তথ্যও তার কাছে জমা হয়। কোথায় যাচ্ছি, কী কিনছি, কার সাথে কথা বলছি — সব কিছুই সংরক্ষিত হচ্ছে কোথাও না কোথাও। তাই স্মার্টফোনকে বিশ্বাস করার পাশাপাশি সচেতন থাকাটাও জরুরি।
স্মার্টফোন এখন আর শুধু একটি যোগাযোগের যন্ত্র নয়। সে আমাদের সহকারী, স্বাস্থ্যসেবক, বন্ধু এবং পথপ্রদর্শক। প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজ থেকে শুরু করে জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিতেও আমরা তার উপর নির্ভর করি। সে আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে যন্ত্র কখনো মানুষের বিকল্প নয়।