ডিজেলের মারাত্মক ঘাটতিতে দেশের অধিকাংশ জেলায় সেচের কাজ ব্যাহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সাইফুল হক বলেন, ডিজেলের অভাব ও লোডশেডিংয়ের কারণে জেলায় জেলায় বোরো ধানের চাষ বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বোরো শুকিয়ে যাচ্ছে। ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরেও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ডিজেলের অভাবে হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনও জমিতে নামতে পারছে না। ধান কাটাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। টিএসপি সারের সংকটও প্রকট হয়ে উঠছে। বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বাড়তি দিয়ে ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বোরোর আবাদ ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সেক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।
তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সুফল এখন পর্যন্ত কৃষকসহ সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। মূল্যবৃদ্ধির পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু তারও কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অবিলম্বে গ্রামাঞ্চলে সেচকাজে ডিজেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি ডিজেল আমদানির ব্যাপারেও আরও তৎপর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ লোডশেডিং চলতে থাকলে তা ধানসহ গ্রামীণ উৎপাদনশীল খাতসমূহকে বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি জ্বালানি খাতের বিদ্যমান দুর্যোগ থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি খাতে যে সীমাহীন চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, সিষ্টেম লস অব্যাহত রয়েছে, তা কেবল ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না। তিনি বর্তমান সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
বিডি প্রতিদিন/এমআই