দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ, যিনি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ছিলেন, হরিয়ানার পালওয়াল জেলার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মোহাম্মদ ফাইয়াজ নামের ওই তরুণ নিখোঁজ হওয়ার আগে তার পরিবারকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তিনি কিছু অপরিচিত লোকের মাঝে ‘আটকে পড়েছেন’ এবং তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ থেকে ফাইয়াজ নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার আগে পরিবারের সাথে তার শেষ কথোপকথনে তাকে অত্যন্ত বিচলিত শোনাত। তিনি ফোনে জানিয়েছিলেন যে তিনি বিপদে পড়েছেন এবং তাকে কয়েকজন ঘিরে রেখেছে। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
জানা যায়, ওখলার মদনপুর খাদারের বাসিন্দা এবং জামিয়া হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোহম্মদ ফাইয়াজ গত ৭ মার্চ রাত ১১:৩০ নাগাদ পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি থেকে বের হন। রমজান মাস হওয়ায় সাধারণত ইবাদত বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে সময় কাটাতে অনেকে রাতে বাইরে থাকেন, তাই পরিবার শুরুতে খুব একটা চিন্তিত ছিল না। কিন্তু পরদিন সকালেও না ফেরায় এবং কোনো খোঁজ না মেলায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। চারদিকে খোঁজাখুঁজির পর ১১ মার্চ কালিন্দি কুঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
ফাইয়াজের দুলাভাই মোহম্মদ আবিদ জানান, ৮ মার্চ ফাইয়াজের সাথে তাদের ফোনে কথা হয়েছিল। ফাইয়াজ জানিয়েছিলেন, জনৈক ব্যক্তির দেওয়া কাজের প্রলোভনে তিনি ভাদোদরা যাচ্ছিলেন। কিন্তু ট্রেন যাত্রার সময় তার সাথে থাকা চার অপরিচিত ব্যক্তির আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তিনি মথুরা স্টেশনে নেমে যান।
ফোনে ফাইয়াজকে খুব আতঙ্কিত শোনাচ্ছিল। তিনি জানান যে তিনি ওই ব্যক্তিদের মাঝে 'আটকে পড়েছেন' এবং তারা প্রতারক হতে পারে বলে তার সন্দেহ হচ্ছে। তিনি দ্রুত দিল্লি ফিরে আসার কথা বলেছিলেন, কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই তার ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, ২১ মার্চ হরিয়ানা পুলিশ ফাইয়াজের পরিবারকে যোগাযোগ করে একটি অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ পাওয়ার কথা জানায়। পুলিশ জানায়, ১৭ মার্চ পালওয়াল এলাকার একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছিল। মরদেহটি বিকৃত অবস্থায় থাকায় প্রথমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং সেটি মর্গে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে মরদেহের সাথে থাকা মোবাইল ফোন এবং আধার কার্ডের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
ফাইয়াজের পরিবারের সদস্যরা এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন। তারা জানান, ফাইয়াজের শেষ ফোন কল এবং তার নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল (৮ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ) নিয়ে অনেক রহস্য রয়েছে। পরিবারের এক সদস্য বলেন, "আমরা তাকে দেখে চিনতে পারিনি কারণ দেহটি পচে গিয়েছিল। তার জামাকাপড়, আধার কার্ড এবং ফোনের মাধ্যমে আমরা পরিচয় নিশ্চিত করেছি।"
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা—তা খতিয়ে দেখছে। তবে ফাইয়াজের নিখোঁজ থাকা দিনগুলোতে তিনি কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে হরিয়ানার ওই খালে পৌঁছালেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা এবং আত্মীয়দের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা হরিয়ানার বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম যুবকদের রহস্যজনক মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ফাইয়াজের মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।