বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাজেটে অবাস্তব কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা কোনো দলের বাজেট করিনি। এটা জনগণের বাজেট। প্রত্যেকটা মানুষের বাজেট। সব শ্রেণি, পেশা, ধর্ম বা বর্ণের সবাই বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আওতার ভিতরে আছে বলে মনে করেন তিনি। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাজার বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কোনো পুলিশ, র‌্যাব কিংবা সরকারি লোক দিয়ে পিটিয়ে ঠিক করার বিষয় না। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সঠিক পলিসি ও ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজেট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ধীরে ধীরে কমিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ বাড়ানোর নীতি নেওয়া হয়েছে। আমরা ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই বাজেটের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন ছিল। দীর্ঘ একটি ফ্যাসিস্ট রেজিম, তারপর অন্তর্র্বর্তী সরকার। এই সময়টাতে বাজেটের সত্যিকার কার্যক্রম, জনগণের চিন্তার প্রতিফলন, সেই বিষয়গুলো বিগত বহু বছর দেশবাসী মিস করেছে। বাজেট বলতে মূলত জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনের কথা বলি। আমাদের সংবিধানও বলা হয়েছে জনগণের ইচ্ছায় জনগণের সম্মতিতে দেশ চালাতে। বহুদিন পর দীর্ঘ সংগ্রামের পর সবার অবদানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। একটি নির্বাচিত সরকার আমরা পেয়েছি এবং বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তিনি বলেন, এই সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সেই আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। সবার সঙ্গে কথা বলতে, সবার মতামত নিতে। যতটুকু সম্ভব আমরা পুরোপুরিভাবে চেষ্টা করেছি। এই বাজেটের প্রেক্ষাপটটা এজন্য একটু ভিন্ন যে সত্যিকার অর্থে আমাদের বাজেট চিন্তায় ছিল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে নিয়ে আসার। আমরা চেষ্টা করেছি সবাইকে আনার। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে কোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্ম, বর্ণের কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমি মনে করি না।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় দেশের সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে, অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় চলে গেছে। রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে উচ্চাকাক্সক্ষা এবং সবাইকে নিয়ে একটা ইনক্লুসিভ বাজেট করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি মানুষকে এই বাজেটের আওতায় আনার জন্য আমাদের স্লোগান ছিল এরকম যে অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করা। এই প্রেক্ষাপটটা আরও বেশি ধারণ করতে হয়েছে। কারণ আগে অর্থনীতিটা ছিল পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি, কিছু মানুষের জন্য অর্থনীতি, কিছু গোষ্ঠীর জন্য অর্থনীতি অথবা কিছু অর্গানাইজ গ্রুপের জন্য অর্থনীতি। যে মানুষগুলো অর্গানাইজ না, যারা পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি, যারা অর্থনীতির ভাবনার বাইরে ছিল, আমরা এই মানুষগুলোকে আনার চেষ্টা করেছি এবং সবার জন্য এই বাজেটে দিয়েছি। শুধু পলিসি বা নীতিমালা নয়, আমরা রোডম্যাপও দিয়েছি। এটা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমাদের কী করতে হবে, সেটাও পরিষ্কারভাবে বলা বলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি ব্যয়ের পেছনে চারটা ক্রাইটেরিয়া আছে। একটা হচ্ছে ভ্যালু ফর মানি, একটা রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট, একটা জব ক্রিয়েশন, আরেকটা এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন। এই চারটি শর্তের ওপর ভিত্তি করে আমরা আগামী দিনের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছি। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গত দেড় দশকে বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। রুল বেজড ইকোনমিক অর্ডার থেকে বিশ্ব সরে গিয়ে একটা প্রটেকশনিস্ট অর্ডারে চলে গেছে। দ্বিতীয় কথা হলো যুদ্ধবিগ্রহ এখন নিউ নরমাল, এখান থেকে আমরা বের হতে পারছি না। যার কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের ক্ষেত্রে এ চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি। কারণ আমরা যেটা ইনহেরিট করেছি, বিগত সরকারের পর অন্তর্র্বর্তী সরকার থেকে যুদ্ধ সব মিলিয়ে আমাদের চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি।

বিদ্যুৎ খাতের জন্য আরও সময় প্রয়োজন : বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা আরও অন্তত দুই বছরের সময় প্রয়োজন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে করা চুক্তি, অব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের কারণে বর্তমান সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ আনতে গ্যারান্টি দিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ চালু করা হয়েছিল। এতে বিনিয়োগকারীদের প্রকল্প ব্যাংকযোগ্য (ব্যাংকেবল) করা হয়েছে এবং সেই সুবিধা দিয়েই দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যমান চুক্তিগুলো এমনভাবে করা হয়েছে যে সেখানে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থই বেশি সংরক্ষিত হয়েছে, সরকারের পক্ষে তেমন কোনো সুবিধা রাখা হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও তারা ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেলে সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেব। তিনি বলেন, লুটপাট করে চলে যাওয়ার পর যে প্যাকেজগুলো আমাদের দিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেগুলো এখন সামাল দিতে হচ্ছে। এসব বিষয় সমাধান করতে সময় দিতে হবে।

বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমার কথা : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমার কথা। গত ১১ বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সুতরাং, এটি সমন্বয় করা দরকার। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে, তাদের আয় বাড়বে, তখন নিশ্চয়ই দুর্নীতি কমার কথা।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী : অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ পুলিশ, র‌্যাব বা সরকারি লোকজন দিয়ে হয় না। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পলিসির মাধ্যমে ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে। আমরা যদি পলিসিগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি মনে করি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে না। আমরা বাজেটে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমে আসবে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান : অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট বক্তৃতাই কোন খাতে কত চাকরি হবে এটা বলা সম্ভব নয়। আমরা আইসিটিতে শিল্প খাতে কৃষিতে বিদেশে কর্মসংস্থান কত হবে, কোন কোন খাতে চাকরি হবে, তা বিস্তারিত বাজেটে বলেছি। সংখ্যা দেইনি, কারণ সংখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের যে প্রেডিকশন করেছি, সেটা পূরণ করতে পারব। কর্মসংস্থান এমনি হয় না, সেটা তৈরি করতে হয়। এজন্য আমরা বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছি। বিনিয়োগ মানে কর্মসংস্থান, সেটা সরকারি হোক বা বেসরকারি হোক।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি : অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পের আওতায় কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে নিরপেক্ষভাবে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করেছেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষই সুবিধা পেয়েছেন। এ সময় তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পে ১ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যা সংশোধনের কাজ চলমান। তিনি বলেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল করে না। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে বিভেদ নয়, বরং সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সবার জন্য উন্মুক্ত এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কালোটাকা : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্থানভেদে জমির প্রকৃত দাম নির্ধারণ হলেই কালোটাকা সাদা হওয়ার আর সুযোগ থাকবে না। জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত মৌজা রেটকে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৌজা রেট এবং জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। এর ফলে নিবন্ধন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সরকার এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বাজেট ঘোষণার আগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে, এখন দেশব্যাপী মৌজাভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে চার/পাঁচ বছর লাগবে : এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তা স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে নিতে সময় লাগবে। আগামী দুই বছর কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে চার থেকে পাঁচ বছর লাগবে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে থাকবে শক্তিশালী টাস্কফোর্স : সরকারের নেওয়া কর্মসূচি যেমন ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ নীতি বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স থাকবে। এই কমিটির সদস্যরা খুব জোরালোভাবে মনিটরিং করবেন। যদি কেউ গাফিলতি করেন তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে সাত দিনের বেশি সময় লাগলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ধরা হবে। এখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews