নেপাল ও চীনের হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর জরুরি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে নেপালকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডার ফেডারেল সরকার। শুক্রবার এই আর্থিক সহায়তার কথা জানানো হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতিমধ্যেই অঞ্চলটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। ফলে স্বজনদের খোঁজে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বহু পরিবার।
- Advertisement -
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দ জানিয়েছেন, ওই এলাকায় থাকা ৩২ জন কানাডিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারও কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের সন্ধান এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে অটোয়া।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড ইতিমধ্যে ১২১ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের তালিকায় কোনও কানাডিয়ান নাগরিক নেই।
বন্যার পানিতে বহু গ্রামের পর গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা-সহ একাধিক জরুরি অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায়। কর্মকর্তাদের মতে, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গত এলাকায় থাকা মানুষজনের অবস্থান জানতে এবং নিখোঁজদের সন্ধান চালাতে যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছে।
কানাডা সরকার জানিয়েছে, ঘোষিত ৫০ লাখ ডলার আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে নেপালে পাঠানো হবে। রেড ক্রসের মতো সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এই অর্থ দুর্গত মানুষের জীবনরক্ষাকারী জরুরি সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।
এদিকে নেপালে থাকা কানাডিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের সহায়তার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঁচজন কনস্যুলার কর্মকর্তাকে নিয়োগ করেছে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা। তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের সন্ধান ও কানাডিয়ানদের সহায়তার কাজ করবেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কনস্যুলার কর্মকর্তা নেপালে পাঠানো হতে পারে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দ। ভয়াবহ এই দুর্যোগের মধ্যে একদিকে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা, অন্যদিকে নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন অসংখ্য পরিবার।
- Advertisement -