পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বেশ অসাম্প্রদায়িক এবং বাঙালি পরিচয়ের প্রতি সংবেদনশীল। তাই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোদির দলের নেতারা পশ্চিমবঙ্গে এসে বাঙালিয়ানা চর্চা শুরু করেছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলায় কথা বলে এবং বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস তুলে ধরে মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
কিন্তু প্রতিবারই বাঙালিয়ানার ভুল চর্চা করে তাঁরা তৃণমূলকে সমালোচনার সুযোগ দিচ্ছেন এবং নিজেরাই হাসির পাত্র হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ এবং মাস্টারদা সূর্য সেনকে ‘মাস্টার’ সম্বোধন করে বেশ হাসির খোরাক হয়েছিলেন। অন্যদিকে অমিত শাহের মুখে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যায়’ উচ্চারণও খুব ভালো শোনায়নি।
সেই বিতর্ক শেষ হওয়ার আগেই তৃণমূলকে নতুন অস্ত্র তুলে দেন নীতীন নবীন। বিজেপির কর্মী সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বললেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! তিনি কবিগুরুর শান্তিনিকেতনকে ‘শান্তিনিকেতন সংস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, কবিগুরু রাজ্যসহ গোটা দেশকে শিক্ষার নতুন পদ্ধতি দিয়েছিলেন, যার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার বিজেপি নেতৃত্বকে বাংলা ভাষার অপব্যবহার এবং বাংলার মনীষীদের অপমান বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন।