নজরুল আমাদের আদরের ধন, আমাদের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাভাবিক কারণেই দেশে মহাসমারোহে নজরুল জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপিত হচ্ছে। নজরুলের সাহিত্যকর্ম, তাঁর জীবন এবং জীবনের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা গবেষণা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। আমি শুধু একটি বিষয়ে বিশেষ করে কিছু কথা বলব।
তেইশ বছর বয়সে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এই একটি কবিতা প্রকাশমাত্র বাংলা সাহিত্যের আসরে কবির আসন পাকা হয়ে গেল। কোন গুণে কবিতাটির এই অসামান্য সমাদর?
‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি যখন প্রকাশিত হয় তখন নিখিল ভারত কংগ্রেসের বয়স ছত্রিশ। আবেদন-নিবেদন করে তার দিনগত পাপক্ষয় চলছে। নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বয়স পনেরো। মুসলিম লীগ একাধারে কামাল পাশাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে এবং তুরস্কের সুলতান ও খলিফার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছে। হাসরত মোহানির পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব কংগ্রেস অধিবেশন বা খেলাফত সম্মেলনে কোথাও গৃহীত হয়নি। এই রাজনৈতিক পটভূমিতে যে কথাটি বলার প্রয়োজন ছিল অথচ বলা হয়নি, সেই কথাটা অকুতোভয়ে উন্নতশিরে ও উচ্চকণ্ঠে ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় বলা হলো। অঞ্জলিবদ্ধ মানুষকে বজ্রমুষ্ঠি তুলে তার স্বীয় মর্যাদা ঘোষণা করার ডাক দিলেন নকিব নজরুল।
‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশের এক বছর পরে ‘ধূমকেতুর পথ’-এর কবিতাটির একটি অনবদ্য পঙ্ক্তির পুনরুক্তি করে কবি বললেন: