ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, আমরা বারবার জীবন দিয়েছি, পঙ্গুত্ব বরণ করেছি। আমাদের সন্তানরা এতিম হয়েছে, নারীরা বিধবা হয়েছেন। এগুলো জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা ত্যাগ স্বীকার করেছি, তা পূরণ হয়নি। কারণ আমরা শৃগালের হাতে মুরগি তুলে দেওয়ার মতো ভুল করেছি। মানব রচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের আশা করা বোকামি। এর জন্য ইসলামই একমাত্র সমাধান। বৈষম্য রোধ করতে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সংখ্যালঘুদের শান্তি নিশ্চিত করতে ইসলামই একমাত্র পরীক্ষিত পদ্ধতি।
বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর আয়োজিত সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফের সভাপতিত্বে দলের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, জুলাই যে সুযোগ তৈরি করেছিল, তাকে কাজে লাগাতে আমরা ইসলামের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা করেছিলাম। এই সমঝোতা যখন সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছিল, তখন স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতার লোভে আদর্শ ছেড়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তারা (জামায়াত) বাংলাদেশে ইসলামের সম্ভাবনা নষ্ট করেছে। একই সঙ্গে তারা দেশের এবং জুলাইয়ের প্রত্যাশাও নষ্ট করেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গুম তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া জুলাই চেতনার সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি। কারণ অতীতে গুমের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততাই বেশি ছিল। অভ্যুত্থান-পরবর্তী জনগণের প্রত্যাশা ছিল, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কিন্তু সমঝোতার নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সে আশায় গুড়ে বালি দিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে নগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, বসবাস-অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা এখন শীর্ষে অবস্থান করছে। নগরবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়ী হলে আমরা ঢাকাকে পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।
নগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আইএবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, নগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ এম এইচ মোস্তফা, নগর উত্তরের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমদ।