ছবির উৎস, SCREEN GRAB
ছবির ক্যাপশান,
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
৩ ঘন্টা আগে
"একটি মহল পরিবর্তনের বিরোধী কারণ পরিবর্তন হলেই তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হবে। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।"
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি ও বেতারে সোমবার সন্ধ্যায় দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে এই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
প্রায় ২০ মিনিটের এই ভাষণে নির্বাচিত হলে দেশ গঠনে জামায়াতে ইসলামী কি পদক্ষেপ নেবে সেসব বিষয় তুলে ধরেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে নারীদের অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে তাদের সরকার। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখার কথাও বলেন তিনি।
"যে সমাজে নারীর মর্যাদা দেওয়া হয় না, সে সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীরা মূল ধারার নেতৃত্বে থাকবেন," বলেন মি. রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি ও বেতারে প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন বা ইসি।
এর আগে রোববার গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
২২শে জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় সভা সমাবেশ করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো
নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের ভাষণ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারের অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে প্রচার করা হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভাষণ।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এই নির্বাচনী ভাষণে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনে দেশের মানুষের কাছে ভোট চান জামায়াত আমির।
সবশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটের নামে তামাশা করে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। দেশের মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে গঠিত সরকার রাষ্ট্র সংস্কারে কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এসব বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে 'হ্যা' ভোট দেওয়ারও আহ্বান জানান মি. রহমান।
কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ দেশের চালকের আসনে বসতে পারবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, মানুষকে অধিকার বঞ্চিত করা যাবে বলেই একটি মহল পরিবর্তন চায় না।
মি. রহমান বলেন, "শাসক শ্রেণী ক্ষমতায় বসে নিজেদেরকে রাষ্ট্রের মালিক মনে করেছে। তারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে।"
অতীতে জামায়াত ইসলামীর যারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা কেউই দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তরুণদেরকে দেশের ভবিষ্যৎ পরিচালক উল্লেখ করে মি. রহমান বলেন, "তরুণদের হাতেই দেশ তুলে দিতে চাই, আমরা থাকবো প্যাসেঞ্জার সিটে।"
দেশের নারী এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াত আমীর। বলেন, জামায়াত রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে নারীরা মূল ধারার নেতৃত্বে থাকবে।
"যে সমাজ নারীর মর্যাদা দেওয়া হয় না, সে সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না," বলেন তিনি।

ছবির ক্যাপশান,
নানাভাবে ভোটারদের মনোযোগ টানার চেষ্টা করছে রাজনৈতিক দলগুলো
বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতের কথাও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। বলেন, "এই বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। ভয়ভীতি ছাড়া সবাই বসবাস করবে।"
এছাড়া নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতার আসনে বসলে দেশের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে সে বিষয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন মি. রহমান।
আন্তর্জাতিক পরিসরে ন্যায্য এবং সমতার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথাও বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, "পরিক্ষিত বন্ধুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির প্রত্যাবর্তনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে," বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ব্যাপক সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। বলেন, নির্বাচিত হলে ব্যবসাকে বিনিয়োগ বান্ধব করে তুলতে চান তারা।
এছাড়া পলিসি সামিটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রবাসিদের অধিকার রক্ষায় নানা পদক্ষেপের কথাও বলেন মি. রহমান। বলেন, প্রবাসীরা যাতে নিপীড়িত না হন সেদিকেও নজর রাখার কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনের আচরণবিধি এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্মান জানিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশিলতা নিশ্চিত করার কথাও জানান জামায়াত আমির।
বিচার বিভাগকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেন মি. রহমান। বলেন, বৈশ্বিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন নিরসনে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সাধ্যমতো পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও।
"নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশে নিরাপদ এবং সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হবে," বলেও জানান তিনি।
'রাজনৈতিক কথার ফুলঝুড়ির বাইরে এসে বাস্তবতার আলোকে সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব' প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা জুলাই আর চাই না, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে মানুষকে আর রাস্তায় নামতে হবে না।"