লেবাননে যখন ইসরায়েলের বোমা ঝরছিল, তখনই বিশ্বের অনেক দেশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল একটি খবরে। খবরটি হলো, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং তার লক্ষ্য হলো, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া।
তবে এ স্বস্তি কোনো হঠাৎ সংযমের ফল ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আচমকা নরম হয়ে যাননি। পর্দার আড়ালে মার্কিন কর্মকর্তারাই পাকিস্তানকে চাপ দিয়েছিলেন একটি সমঝোতা করাতে। এতে ট্রাম্প তাঁর সেই হুমকি থেকে সরে আসার সুযোগ পান, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ইরান নতি স্বীকার না করলে তার ‘সমগ্র সভ্যতাকে ধ্বংস’ করা হবে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি এসেছে শক্তির দাপটে নয়, বরং নিজের তৈরি সংকট সামলাতে বাধ্য হওয়ার কারণে।
পাকিস্তানের এ মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি খুবই নড়বড়ে। ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় ট্রাম্প এখন আবার প্রণালিটি অবরোধ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এ পুরো ঘটনাপ্রবাহ বড় একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তা হলো, আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যের যুগ শেষের পথে। নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার আভাস মিলছে, যেখানে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছে।