ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিলেন কানাডার তারকা ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে কাতারকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে স্বাগতিক কানাডা। একই সাথে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের পুরোনো এক পরিসংখ্যানে নিজের নাম যুক্ত করেছেন ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।
১৯৩০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ট প্যাটেনডের পর প্রথম উত্তর আমেরিকান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন ডেভিড। তিনি ১৯৬৬ আসরের পর ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক দেশের মাটিতে হ্যাটট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড়ও। সর্বশেষ এই কীর্তি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। ১৬তম মিনিটে কাইল লারিনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ২৯তম মিনিটে নিজের গোল উৎসব শুরু করেন ডেভিড। ডান পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে কাতারের জালে বল জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এটি ছিল দীর্ঘ সময় পর ওপেন প্লে থেকে পাওয়া তার প্রথম গোল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারো গোলের দেখা পান ডেভিড। ক্রসবারে লেগে ফিরে আসা বলে গোলমুখে সৃষ্ট জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তাতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কানাডা।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্বাগতিকরা। কাতার দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখায় সংখ্যাগত সুবিধা আরও ভালোভাবে কাজে লাগায় কানাডা। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ডেভিড। তার এই গোলেই ৬-০ ব্যবধানে বড় জয় নিশ্চিত হয়।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিশেষ এক কীর্তির অংশ হয়ে গেলেন ডেভিড। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরের পর উত্তর আমেরিকার কোনো ফুটবলারের হ্যাটট্রিকের বিরল কীর্তির সাথে তার নাম যুক্ত হলো। পাশাপাশি ১৯৬৬ সালের পর স্বাগতিক দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড়ও তিনি।

এর আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জিওফ হার্স্ট পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছিলেন। প্রায় ছয় দশক পর স্বাগতিক সমর্থকদের সামনে একই কীর্তি দেখিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন ডেভিড।
চলতি বিশ্বকাপে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিও এক ম্যাচে তিন গোল করেছিলেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৫৩ জন ফুটবলার মোট ৫৬টি হ্যাটট্রিক করেছেন। সেই গৌরবময় তালিকায় এবার যুক্ত হলো কানাডার এই তারকা ফরোয়ার্ডের নাম।
বিশ্বকাপের প্রথম জয়, বড় ব্যবধানের সাফল্য এবং জোনাথন ডেভিডের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক—সব মিলিয়ে ভ্যাঙ্কুভারের রাতটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে কানাডিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে।