সিঙ্গাপুরের ১-০ গোলের পরাজয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের মিশন। গতকাল সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অসাধারণ খেলা উপহার দিয়েও পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেন হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। ম্যাচজুড়ে খেলল বাংলাদেশ। তবে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল স্বাগতিক সিঙ্গাপুর।
এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচটার গুরুত্ব বাংলাদেশের কাছে অন্যদিক দিয়ে অনেক বেশিই ছিল। এ ম্যাচের ফল বাংলাদেশের অবস্থানে পার্থক্য আনতে পারত না। বেশ আগেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে হামজা-সামিত-ফাহামিদুলদের নিয়ে গড়া দল এক নতুন যুগে প্রবেশের সন্ধিক্ষণে আছে। যে যুগের সূচনা হয়েছিল গত নভেম্বরে ঢাকার মাঠে ভারতকে হারানোর মধ্য দিয়ে। গতকালের ম্যাচে ইতিবাচক ফল নতুন পথে অনেক দূর এগিয়ে দিতে পারত। কিন্তু গতকাল ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলেও পয়েন্ট পেলেন না হামজা-সামিতরা।
গতকাল বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে, সময় এখন অনেক বদলেছে। ছোট ছোট পাসে বল দখলে রাখার স্প্যানিশ রীতিটা ভালোই রপ্ত করেছে দলটি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইন ভেঙে আক্রমণের পথ তৈরি করাও শিখেছে। মাঝ মাঠের দখল নিয়েও সময় কাটাতে পারে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা পেরিয়েও আধিপত্য দেখাতে পারে বাংলাদেশ। কিন্তু একজন উপযুক্ত গোল স্কোরারের অভাব বরাবরের মতোই দেখা গেছে গতকাল। পুরো ম্যাচেই বাংলাদেশ বল দখল এবং আক্রমণের দিক দিয়ে এগিয়ে ছিল। পেল না কেবল কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা। বিপরীত দিকে সিঙ্গাপুর ম্যাচের ৩১ মিনিটে কাউন্টার আক্রমণ থেকে গোল করে এগিয়ে যায়। মাঝ মাঠ থেকে বল পেয়ে দ্রুত গতিতে বাংলাদেশের ডি বক্সের দিকে ছুটে যায় সিঙ্গাপুরের ফুটবলাররা। কুয়েহ জোরালো শট নেন ডি বক্সে। এই শটটা ফিরিয়ে দেন মিতুল মারমা। তবে ফিরতি বল পেয়ে ইখসান ফান্দি পাস দেন হারিস স্টুয়ার্টের দিকে। হারিস নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান। এই গোলটা ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। এ গোলের আগে বাংলাদেশের সুযোগই ছিল বেশি। সামিত সোম ১৪ মিনিটে গোলমুখে হেড করেছিলেন। বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ করেন হামজারা। তবে প্রতিবারই সুযোগ হাতছাড়া হয়। ৭৯ মিনিটে হামজার ক্রসে বল পেয়ে ডি বক্সের ভিতর থেকে শট নিয়েছিলেন বদলি নামা মিরাজুল। তবে তার শটটা গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর আগেও সাদ-মোরসালিনরা সুযোগ হারিয়েছেন। সিঙ্গাপুরের গোলমুখে বাংলাদেশ অন্তত ডজনখানেক আক্রমণ করেও সফল হতে পারেনি। সুযোগ হারিয়েছেন হামজা চৌধুরী, ফাহিম, ফাহামিদুলরাও। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শক খেলা দেখেছেন গতকাল। এর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল অনেক। তারা ম্যাচজুড়েই উৎসাহ দিয়েছেন বাংলাদেশ দলকে। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উৎসব করেছেন। হামজাদের ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতিই দিয়েছেন তারা। দর্শকদেরও কম দেননি হামজারা। দৃষ্টিনন্দন খেলা উপহার দিয়েছেন। যে খেলায় চোখ জুড়ায়। প্রাণ জুড়ায়। জয়টাই কেবল উপহার দিতে পারেননি। বাংলাদেশের ফুটবলারদের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্স দেখার তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন প্রবাসী সমর্থকরা। এমন এক ম্যাচের পর স্প্যানিশ কোচ কাবরেরাও তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। তিনি বলেছেন, আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচ খেলে ১ জয় ও ২ ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে মিশন শেষ করল বাংলাদেশ। গতকাল ভারত ২-১ গোলে হংকংকে হারালেও বাংলাদেশ গ্রুপে তৃতীয় স্থানেই থাকল। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করল সিঙ্গাপুর। আগামী বছর এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে তারা। বাংলাদেশ বাছাইপর্বের বাধা পাড়ি দিতে পারেনি। তবে নতুন এক যুগ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এ দলটাই এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে হয়তো!