নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাবনা-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নির্বাচনী গণসংযোগ কর্মসূচিতে পাবিপ্রবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে লিফলেট হাতে স্লোগান দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান।
এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পাবনার নাগরিক সমাজের ভেতরে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বেতনভুক্ত একজন শিক্ষক হয়ে এভাবে সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেয়াকে সংশ্লিষ্টরা ‘পেশাগত অসদাচরণ’ ও ‘নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছেন।
সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৫ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রার্থীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।
এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৮৬ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, সরকারি কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি তার পদ বা প্রভাব ব্যবহার করে বা সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিয়ে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করতে পারবেন না। এই অপরাধের জন্য এক-পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির শর্তাবলীর ৪৭(৫) ধারা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক মতামত পোষণের স্বাধীনতা ভোগ করবেন; তবে তিনি সেই মতামত প্রকাশ বা প্রচার করতে পারবেন না এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আচরণবিধি সম্পর্কে আমার বিষয়টা সেভাবে জানা ছিল না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম জানান, শিক্ষকদের বিষয়টা তো অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়। এ বিষয়টা এখনো আমার নজরে আসেনি এবং কেউ এখন পর্যন্ত অভিযোগও দেয়নি। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন।